মাত্র পাওয়া

ইতিহাস-মিথের সন্ন্যাসী রাজা ও ভাওয়াল রাজবাড়ি (তৃতীয় কিস্তি)

শাহান সাহাবুদ্দিন | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৩:০৫ অপরাহ্ণ

ইতিহাস-মিথের সন্ন্যাসী রাজা ও ভাওয়াল রাজবাড়ি (তৃতীয় কিস্তি)

[ভাওয়াল রাজা তথা সন্ন্যাসী রাজা ইতিহাসের এক আশ্চর্য চরিত্র। রাজার ভালোবাসা ও সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে রাণী বিভাবতী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তাঁদেরই রাজকর্মচারী ডা. আশুতোষের সঙ্গে। একপর্যায়ে নেপথ্যে দুষ্টগ্রহের পোশাক পরিধান করেন রাণীর ভাই সত্যেন মূখার্জি। রাণী বিভাবতী, ডা. আশুতোষ ও সত্যেন মূখার্জি- এ ত্রি চরিত্র মিলে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। রাজাকে হত্যা করতে চাইলেন। ঘটতে থাকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা… ইতিহাস খুঁড়ে সেসবরেই মর্মন্তুদ আখ্যান দক্ষ হাতে তুলে আনলেন কবি, গল্পকার ও দৈনিক বিরাজমান এর নির্বাহী সম্পাদক শাহান সাহাবুদ্দিন। আজ প্রকাশ হলো তৃতীয় কিস্তি।]

ভাওয়াল রাজপরিবারের উত্থান
অত্যন্ত দূরদর্শী ও ধীমান বাংলার দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খানের মাধ্যমে দশসালা আইন প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে ১৭২২ সালে এ দেশে জমিদারি প্রথার সূচনা হয়। ১৭৬২-৭২ পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি জমা বন্দোবস্ত ও ১৭৭৭ সাল থেকে বার্ষিক মেয়াদি জমিদারির বন্দোবস্ত প্রথা চালু হয়। পরবর্তীতে ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্ণওয়ালিশ কর্তৃক স্থায়ী জমিদারি বন্দোবস্তের সূচনা হয়। ঐতিহাসিকদের মতে,স্থায়ী বন্দোবস্তের পরবর্তী সময়ে গোটা বাংলায় সে সময়ে ১২১টি জমিদারি ছিল, যার মধ্যে ভাওয়াল পরগণা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে বিপুল প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল। স্থায়ী বন্দোবস্তের কাল থেকেই বৃটিশ সরকার লোক নারায়ণ রায়কে ভাওয়াল পরগণায় স্থায়ী জমিদার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। তাঁর হাত দিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা পায় ভাওয়াল পরগণার রাজবাড়ি। 
সুদূুর অতীতে সেন বংশ পূর্ববঙ্গসহ ভারতের বেশ কিছু অঞ্চল প্রায় ১২০বছর রাজত্ব করেন। পূর্বে ব্রষ্মপুত্র, উত্তরে আড়িয়াল খাঁ, ও দক্ষীণ-পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত সেনদের আধিপত্য ছিল। ধর্তব্য যে, সেন বংশের পতনের পরও সেন বংশের সেনাপতি প্রতাপ রায় ও প্রসন্ন রায় আপন সাহস ও শক্তি বলে কিছুকালের জন্য রাজ বাড়িতে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তাঁদের পতনের পর ভাওয়াল পরগণা বার ভুঁইয়ার অন্যতম ফজল গাজীর অধীনে চলে আসে। ফজল গাজীর পর দৌলত গাজীর ভাওয়ালের ভাগ্যকর্তা হিসেবে অভিষেক ঘটে। কিন্তু রাজ্যের সীমা নিয়ে দৌলত গাজীর সঙ্গে সে সময়ের ঢাকার নবাব নাজিমের বাদানুবাদ হয়। ফলে দৌলত গাজী ভাওয়াল পরগণা রক্ষার জন্য মুর্শিদাবাদ কোর্টে মামলা দায়ের করেন। সে সময়ে মুর্শিদাবাদ কোর্টে কুশধ্বজ নামে জনৈক মোক্তার মামলা পরিচালনায় প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। কুশধ্বজের খ্যাতি সম্বন্ধে সম্যক ধারনা পেয়ে দৌলত গাজী মামলা পরিচালনার ভার তার হাতেই ন্যাস্ত করেন। কুশধ্বজের আপন মেধা মনিষা ও দক্ষতার বদৌলতে দৌলত গাজী এ মামলায় জয়ী হন। মামলা পরিচালনা ও আইন বিষয়ে কুশধ্বজের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে দৌলত গাজী তাকে জয়দেবপুরের ‘চান্দনা’ গ্রামে একটি বাড়ি ও কিছু জমি প্রদান করেন এবং পরবর্তিতে তাকে দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দান করেন। শুধু তাই নয়, কুশধ্বজের সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে দৌলত গাজী তাকে ‘রায় চেীধুরী’ উপাধিতে ভুষিত করেন। কুশধ্বজের মৃত্যুর পর তার পুত্র বলরাম রায় দেওয়ানী পদে নিযুক্ত হন। ইতোমধ্যে ১৭৩৬ সালে দৌলত গাজী মক্কা থেকে পবিত্র হজ্জব্রত পালন শেষে পায়ে হেঁটে ফেরার পথে পথি মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। দৌলত গাজীর অবর্তমানে সুচতুর বলরাম রায় ও তার সহযোগীদের ষড়যন্ত্রে খাজনা বাকি পরলে মুর্শিদাবাদের নবাব গাজীর ওপর রুষ্ট হন। বলরাম রায় আপন কুটবুদ্ধিতে দৌলত গাজীর প্রধান প্রধান কর্মচারীর সহযোগিতায় জমিদারি নিলামে তুলে নিজেদের নামেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত লিখিয়ে নেন। বলরাম রায় কর্তৃক জমিদারি নিলামে নেওয়ার পর দৌলত গাজীর দৌহিত্র সুলতান গাজী ভারতের তৎকালীন গভর্ণর লর্ড কর্ণওয়ালিশের কাছে জমিদারি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেও ব্যর্থ হওয়ার পর হতেই ভাওয়ালে গাজী বংশের শাসনামল শেষ হয়। ১৭৩৬ সাল পর্যন্ত গাজীরা ভাওয়াল পরগণার ভাগ্যকর্তা ছিলেন। ইতিহাস বিশ্রুত,গাজীদের নামানুসারেই এতদ অঞ্চলের নাম হয় গাজীপুর। এরপর ১৭৩৮ সাল থেকে সুচতুর বলরাম রায়ের হাত ধরেই ভাওয়ালে হিন্দু জমিদারদের রাজত্ব শুরু হয়। বলরাম রায়ই ভাওয়াল রাজবংশের প্রথম পুরুষ। তিনি ভাওয়ালের রাজধানী চৌরায় বসবাস শুরু করেন। রাজ্য পরিচালনার সুবিধার্থে পরবর্তিতে তার পুত্র শ্রীকৃষ্ণ রায় চান্দনা গ্রামের পূর্বদিকে পাড়াবাড়ি নামক স্থানে চৌরা থেকে চলে আসেন। এই পাড়াবাড়িকেই পরবর্তী সময়ে শ্রীকৃষ্ণ রায়ের পুত্র কুমার জয়দেবের নামানুসারে জয়দেবপুর নামকরণ করা হয়। ১৭৮৭ ও ১৭৮৯ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর রাজবাড়িতে পাকা ইমারত নির্মানের পাশাপাশি রাজউদ্যান ও রাজ শশ্মান বিনির্মানে লোক নারায়ণ রায় হাত দেন। সে সূত্রে লোকনারায়ণ রায়ই ভাওয়াল রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। ভাওয়াল রাজপ্রাসাদ থেকে বেশ খানিকটা দূরে নোয়া গাঁও মৌজায় ১৯.০৭ একর এলাকা জুড়ে লোক নারায়ণ রায় উপরোল্লেখিত রাজউদ্যানটি গড়ে তুলেন। সম্রাট নেবুচাঁদ যেমন তাঁর প্রিয়তমা সম্রাজ্ঞীর সন্তুষ্টি ও অবকাশ যাপনের জন্য বেবিলনের শূন্য উদ্যান গড়ে তুলেছিলেন তেমনি লোক নারায়ণ রায় ও তাঁর প্রিয়তমা রাণীর জন্য নির্জন প্রান্তরে তিন কক্ষ বিশিষ্ট প্রমোদশালা উদ্যান তৈরী করেন। মিথ আছে, রাজ মহিয়সী রাজবংশের ভবিষ্যত মঙ্গলের কথা ভেবে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে প্রমোদ ভবনের মেঝের অভ্যন্তরে বিশ কলস স্বর্ণমুদ্রা লুকিয়ে রাখেন। রাজউদ্যানের সৌন্দর্য বর্ধনে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ উত্তরসূরীদের অবর্তমানে অপরিচর্যায় উদ্যানটি তার সৌন্দর্য হারাতে থাকে। উদ্যানের সংস্কার সংরক্ষণে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী নুরুল ইসলাম ভাওয়াল রতœসহ কেউ কেউ এগিয়ে এলেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কেউ এ ব্যপারে সময়োপযোগী পদক্ষেপে এগিয়ে আসেননি। পরবর্তীতে দুষ্টগ্রহ কর্তৃক উদ্যানটি দখল হয়ে যায়। এমনকি উদ্যানের প্রমোদ ভবন দখল সহ বিরল প্রজাতির নানাবিধ বৃক্ষ সমূলে ধ্বংশ করে দেয়া হয়।
ভাওয়াল রাজ পরিবারের ২৩ পুরুষের মধ্যে ১৩ পুরুষ জমিদারি পরিচালনা করেন; এরমধ্যে ১১তম জমিদার কালী নারায়ণ রায় প্রথম রাজা উপাধি গ্রহণ করেন। এর আগে এদের নামের সঙ্গে শুধু রায় উপাধি ব্যবহার করা হতো।
ভাওয়াল জমিদারি সময়সীমা ১৯৩৮ থেকে জমিদারী আমলের শেষ দিন, অর্থাৎ ১৯৫২ পর্যন্ত। তৎকালিন সময়ে বাংলা বিহার উরিষ্যার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ভূমিজ আয়ের উৎস ছিল ভাওয়াল পরগণা। ১৯১৭ সালের ভূমি জরিপ ও রেকর্ড মূলে জানা যায় ভাওয়াল এস্টেটে সর্বমোট মৌজার সংখ্যা ছিল ২২৩৪টি, জমির পরিমাণ ছিল ৪৫৯১৬.৩০ একর, যার দুই-তৃতীয়াংশ ছিল বনভূমি; বার্ষিক রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৩০৫২ টাকা। প্রজারা প্রত্যক্ষভাবে ৩৩টি তহসিল অফিসের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করতো।

রাজধানীর উপকন্ঠে মাত্র বাইশ মাইল উত্তরে ভাওয়াল পরগণার অবস্থান। জয়দেবপুর রেল জংশনের অর্ধ কিলো পূর্ব দিকে অপূর্ব কারুকাজ সম্বলিত শিল্প ও নান্দনিকতার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটিয়ে তিনশ‘ ষাট কক্ষ বিশিষ্ট বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ দোতলা এ রাজবাড়িটি নির্মিত হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় সরকারের প্রত্নতত্ত বিভাগের উদাসিনতা সত্বেও এর প্রায় সবগুলো কক্ষ এখনো অক্ষত আছে। জমিদারিতে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ অযোগ্য গোলক নারায়ণের পুত্র কালী নারায়ণ রায় নান্দনিকতার অপূর্ব সৌকর্যে রাজ বাড়ির বাইরে সুবিশাল শক্তিশালী প্রাচীরসহ এ বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ রুপে শেষ করেন ১৮৬০-১৮৬১ সালে। রাজবাড়ির সামনের অংশটি অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ধাঁচে নির্মিত। ছোট বড় দশখানা বাড়ি ও পাঁচশত কক্ষসহ রাজবাড়ি এলাকার দৈর্ঘ্য ২৯৭ গজ ও প্রস্থ ১১০ গজ। রাজবাড়ির অভ্যন্তরে রয়েছে শ্রী শ্রী মানিক্যমাধবের দেব মন্দির। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে এখনো জয়দেবপুরে এই দেবতার নামে রথ যাত্রা হয়। রাজবাড়ির গেট দিয়ে ঢুকেই সামনে পড়বে বড় দালান। তাছাড়াও তখনকার রাজবাড়িতে জৌলুস ও আভিজাত্যের দম্ভ প্রকাশ ঘটিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল কাছারি বাড়ি,খাজাঞ্জিখানা,তোষাখানা,পিলখানা,আস্তাবল,নাটমন্দির,হাতিশালা, রাজউদ্যান ও রাজ স্মৃতিসৌধ ও স্নানাঘার সম্বলিত বিশাল বড় দিঘী। রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় ও তাঁর পুত্র বিখ্যাত সন্ন্যাস রাজা রমেন্দ্র নারায়াণ রায় মিলে রাজ বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছিলেন একটি চিড়িয়াখানা। যে বিষয়টি ভাওয়াল রাজাদের মননশীলতার পরিচয়কে সাবলীল ভাবে জানান দেয় সেটি হচ্ছে, রাজবাড়ির একেকটি ভবনের কাব্যিক নামকরণ। রাজবাড়ির পশ্চিম অংশের দোতলা ভবনের নাম ছিল‘রাজ বিলাস’, নিচে রাজার বিশ্রামের কক্ষটির নাম ছিল ‘হাওয়া মহল’ মাঝের দক্ষিণ দিকের খোলা খিলান যুক্ত কক্ষের নাম ছিল ‘পদ্ম নাভি’,পশ্চিমের মাঝের ভবনের দোতলা ছিল ‘রাণী মহল’ ও রাজদিঘীর পশ্চিম তীরের ভবন ছিল ‘খাস মহল’, এ খাস মহলেই থাকতেন রাজা কালী নারায়ণ রায় কর্তৃক নিয়োগকৃত ম্যানেজার বিখ্যাত সাহিত্যিক কালী প্রসন্ন ঘোষ, যিনি ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে রাণী বিলাস মণি কর্তৃক অপসারিত হয়েছিলেন। বর্তমান রাণী বিলাস মণি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছিল ম্যানেজারের অফিস। রাজবাড়ির সামনের বর্তমান বিশাল মাঠটি তখনকার সময়ের। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে ১৯০৪ সালের দিকে রথখোলার পিলখানায় ভাওয়াল রাজার হাতি ছিল কুড়িটি। বর্তমান সার্কিট হাউস ও হাসপাতাল এলাকার টেকে টি গার্ডেন ম্যানেজার ট্রান্সচেরি দার্জিলিং থেকে চা গাছ এনে বিশাল আয়তনের চা বাগান গড়ে তুলেছিলেন। ভাওয়াল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হতো বসন্তে দোলযাত্রা ও বৈশাখে রাজ পূণ্যাহ। সেই পিলখানার হাতি, সেই সমৃদ্ধ চা বাগান, সেই রাজপূণ্যাহ এখন শুধু ধূসরতর স্মৃতির ক্যানভাস!
বর্তমানে ভাওয়াল রাজপ্রাসাদটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিচার কার্য পরিচালনার কোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৬৪ সালের মাঝামাঝিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রায় শতাধিক সৈনিকের একটি ইউনিটের অবস্থান ও পরবর্তিতে ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে সেপ্টেম্বর মাসে ছত্রী সেনা ইউনিট কমান্ডিং অফিসার মেজর রউফ ও তার সহযোগীরা প্রাসাদ কক্ষের তালা ভেঙ্গে মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।

[চলবে…]

 

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

div1 div2 div3 div4 div5 div6 div7 div8