মাত্র পাওয়া

পাপিয়া দম্পতির ২০ বছরের দণ্ড

| ১৩ অক্টোবর ২০২০ | ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

পাপিয়া দম্পতির ২০ বছরের দণ্ড

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে সর্বোচ্চ ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯-এর ‘এ’ ধারায় দুজনকে ২০ বছর করে এবং ১৯-এর ‘এফ’ ধারায় দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি ধারার সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত গতকাল সোমবার এই রায় ঘোষণা করেছেন।

অস্ত্র মামলার আসামি পাপিয়া ও সুমনকে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁদের আদালতের গারদ থেকে এজলাসে তোলা হয়। বিচারক রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ২৬ মিনিটে তা ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, পাপিয়া ও সুমন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের রাজনীতিবিদ বলা যায় না। বরং তাঁরা তথাকথিত রাজনীতিবিদ। কারণ একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাসায় অস্ত্র, গুলি ও ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা পাওয়া যাওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তাঁরা নিজেদের কল্যাণে রাজনীতি করেছেন।

কোনোভাবেই দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করেননি। এটা রাজনীতির জন্য কলঙ্কজনক। এই রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি বার্তা।

ঢাকা মহানগর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে পাপিয়া ও তাঁর স্বামী সুমন একই পরিবারের হওয়ায় তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না দিয়ে আদালত এই রায় দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।’

আসামি পাপিয়ার আইনজীবী শাখাওয়াত উল্লাহ ভূইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালত আইনগত দিক বিবেচনা করে মামলার রায় দেননি। এটি একটি সাজানো নাটক। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’ আসামি মফিজুরের আইনজীবী এ এফ এম গোলাম ফাত্তাহ বলেন, ‘এই রায়ে আমরা ক্ষুব্ধ। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুর রহমান সুমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পাপিয়া দম্পতির দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেকের পাতা, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড জব্দ করে র‌্যাব। ওই ঘটনায় শেরেবাংলানগর থানায় অস্ত্র আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার বিচারকাজ শেষ হয় মাত্র ৯ কার্যদিবসে। গত ২৭ সেপ্টেবর আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত ১২ অক্টোবর রায়ের দিন ধার্য করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের বিরুদ্ধে গত ২৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২৫ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। মামলায় ছয় কার্যদিবসে মোট ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জন সাক্ষ্য দেন।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাগতম – বিরাজমান ডট কম

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

error: Content is protected !!