মাত্র পাওয়া

পথেই যাদের জীবন।

| ০৬ অক্টোবর ২০২০ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

পথেই যাদের জীবন।

ইমরান হাসানঃ শ্রীপুর, গাজীপুর
শহরের বা উপশহর এর অতি পরিচিত দৃশ্য হচ্ছে বস্তা হাতে টোকাই বা পথ শিশুদের বিচরণ। রাস্তায় যত্রতত্র পড়ে থাকা বস্তু গুলো কুড়ানোই এদের মূল কাজ। প্রায়শই খালি গায়ে কিংবা ছেড়া জামাকাপড় পরে ঘুরে বেড়ায় এই সব শিশুরা। নিছক জীবিকা বা বাবা-মাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগানোর জন্য শিশু এবং বাল্য বয়সে তাদের এই রকম জীবন যাপন শুরু হয় । আচ্ছা আমাদের কি কিছুই করার নেই এদের জন্য? আমরা দেশের জন্য কত কিছুই তো করতে চাই। সকলের সম্মিলিত একটু চেষ্টায় এই সকল পথ শিশু পেতে পারে একটু মানবিক জীবন যাপনের সুযোগ একটু সহায়তা পারে সুন্দর একটি জীবন উপহার দিতে । পথ শিশুদের একটি বড় অংশ তাদের পরিবার ছাড়াই দিনে এবং রাতে রাস্তায় অবস্থান করে,বেড়ে ওঠে তিলতিল করে । কিছু শিশু সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে পরিবারে ফিরে আসে অনেকের আবার ঠিকানা হয় বিভিন্ন শপিং মলের সামনে ফ্লাইওভারের নিচে । অপরদিকে দেশের নগর বন্দর শহরে দিনে দিনে ছিন্নমূল পথ শিশুদের মিছিল প্রসারিত হচ্ছে। চোরাচালান মাদক বিক্রি সমাজ বিরোধী কার্যকলাপে শিশুদের ব্যবহার। জড়িয়ে যাচ্ছে চুরি ছিনতাই কিংবা নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে। জন্ম নিবন্ধনের আওতায় এদের অধিকাংশই আনা সম্ভব হয়নি। এদের একটি অংশের প্রতিদিন রাত কাটে রাস্তা ও ফুটপাতে। বাবার কোলে অপার স্নেহ আর মায়ের আঁচলে মুখ লুকানোর স্বর্গীয় সুখ তাদের কপালে জোটেনি। অনেক সময় চাইলেও পারে না এই সুখ, স্নেহ । ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকেই ওরা অনাদর, অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার হয়েছে ধাপে ধাপে। রাস্তার পাশে জেগে উঠা আবর্জনার স্তুপ, বাস টার্মিনাল-রেলস্টেশন এখানে-সেখানে নোংড়া অপরিচ্ছন্ন স্থানটুকুই আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেয় ওরা বাঁচার তাগিদে । কাগজ কুড়ানো কিংবা ভিক্ষাবৃত্তি দিয়েই জীবন শুরু করে। মানুষের ধিক্কার, চড়-থাপ্পরসহ নানা শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হয় প্রতিনিয়ত । অবহেলা যেন তাদের জন্ম পাওনা, ওরা যেন সমাজের সর্বোচ্চ অবহেলিত মানুষ। ওদের নিয়ে ভাবনার সময় হয় না কারো। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় সহ সকল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কারো সহানুভূতি পায় না কখনো। বেঁচে থাকার আহার টুকু কখনো রোজগার করতে না পারলে পেটের জ্বালায় বেছে নেয় চুরি, ডাকাতিসহ নানা সামাজিক অপরাধমূলক কাজ। সমাজের এসব পথ শিশুরা কারো কাছে ‘টোকাই’’ হিসেবে পরিচিত। রেলস্টেশন ছিন্নমূল পথশিশু বা টোকাইদের একটি বড় অংশের বিচরণস্থল। এছাড়া বাজারের আশেপাশে বিভিন্ন রাস্তার পাশে, কল-কারখানার আবর্জনার স্তুপে অনেক টোকাই ছেলে-মেয়েদের কাঁধে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ ঝুলিয়ে কাগজ কুড়াতে দেখা যায়। তাছাড়া বাসস্ট্যান্ডে অনেক পথ শিশুকে বাসের কন্টাক্টারের সাথে সাথে যাত্রী হাঁকতে দেখা যায় হকার এর কাজেও এদের দেখা যায় ।
আবার কখন ফুল বিক্রি করতে দেখা যায় নানা জায়গায় জীবন এর তাগিদে নানা কাজ করে থাকে । বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে তাদের সাথে কথা বললে, তারা বলে আমরা দিন আনি দিন খাই । একদিন ফুল বিক্রি না করলে না খেয়ে থাকতে হয় কিংবা কাগজ কুড়াতে না পারলে মালিক টাকা দেয় না তখন তাদের খাবার জোটে না । তারা আরো বলে আমাদের পড়াশুনা করতে ইচ্ছা হয়। অনেক স্বপ্ন আছে । বড় হয়ে ডাক্তার ,শিক্ষক ,উকিল,পুলিশ হব সেই সাথে ভাল মানুষ হব । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলে আমার মতো অনেকে আছে যারা নানা রকম অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত।  তারা একটু সুযোগ সুবিধা পেলে পরিশ্রম করে সামাজিক জীবন যাপন করতে চায় । আমরা ভালো মানুষ হতে চাই, অবহেলা থেকে মুক্তি চাই।  সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করতে চাই । এমতাবস্থায় সমাজের বিত্তশালীদের পথ শিশুদের প্রতি নজর দেওয়া সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

error: Content is protected !!