মাত্র পাওয়া

মুজিব বর্ষে শরিফুল হাসান শুভ’র ঐতিহাসিক অবদান “বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত ছাত্রজীবন” বইটি

| ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

মুজিব বর্ষে শরিফুল হাসান শুভ’র ঐতিহাসিক অবদান “বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত ছাত্রজীবন” বইটি

বাজারে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা শত সহস্র। কিন্তু গুরুত্বের দিক বিবেচনায় অনেক বই কালোত্তীর্ণ হতে পারে না। আবার কিছু বই গুণে মানে, সত্যতায়, সঠিকতায় হয়ে ওঠে অনন্য এবং বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। শরিফুল হাসান শুভ’র “বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত ছাত্রজীবন” বইটিও তেমন একটি দলিল হয়ে উঠতে পারে অনাগত ভবিষ্যতে। এর মূল্য: ২৪০ টাকা, পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬; প্রকাশ করেছে- প্রতিভা প্রকাশ।

ছাত্রজীবনেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি প্রস্তর নির্মিত হয়েছিল। সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার কারণে বঙ্গবন্ধু সেই ছাত্রজীবন অসমাপ্তই থেকে যায়। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে আমরা দেখতে পাই- তাঁর রাজনৈতিক জীবনটা অনেক সংগ্রাম এবং পরিশ্রমের। ছাত্রজীবনেও তাঁকে অনেক সংগ্রাম এবং পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর সেই ছাত্রজীবনের অনুপ্রেরণার ঘটনাগুলো নিয়েই ‘অসমাপ্ত ছাত্রজীবন’ বইটি রচিত হয়েছে। ছাত্রজীবনের শুরুতেই শারীরিক অসুস্থতার কারণে বঙ্গবন্ধুর মোট চার বছর পড়াশুনা ব্যহত হয়। ১৯৩৪ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর চোখে বেরিবেরি রোগ হয়। চোখের চিকিৎসার জন্য কলকাতা নেয়া হয়। এই অসুখে তাঁর দুই বছর শিক্ষা জীবন নষ্ট হয়। ১৯৩৬ সালে আবারও বঙ্গবন্ধুর চোখে গ্লুকোমা রোগ হয়। এবারো তাঁকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্রজীবনের শুরুতে এভাবেই তিনি বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষার জন্য এন্ট্রান্স পাস করার পরে কলকাতা চলে যান। সেখানে ইসলামি কলেজে ভর্তি হন। সেখানে পড়ার সময় ১৯৪৩ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্রলীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এভাবে ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক সফলতার গল্প রচিত হতে থাকে। ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলেকে আইনজীবী বানাবেন। সম্ভবত এজন্যই তিনি আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনি গভীরভাবে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। অনেক জেল-জুলুম এবং নির্যাতনের মধ্যেও তিনি রাজনীতিতে অটল ছিলেন। নেতা হওয়া কিংবা সুনাম অর্জনের জন্য তিনি রাজনীতি করেন নি। রাজনীতি করেছেন দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। পাকিস্তান সরকার যখন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছিল, তখন বঙ্গবন্ধুসহ সব ছাত্র কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তা সহ্য করতে পারেনি। তারা বঙ্গবন্ধুসহ বহু ছাত্রনেতাকে কারাবরণে বাধ্য করে। এই ঘটনা ঘটে ১৯৪৮ সালে। তারপর থেকে এদেশের ছাত্র সমাজ উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়নি। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে যখন আইন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র তখন তাঁর ছাত্রজীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীদের মধ্যে দাবি-দাওয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। এটি নিয়ে তাদের মধ্যে আন্দোলনের তোড়জোড় শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা ধর্মঘটে চলে যাq। বঙ্গবন্ধুসহ বেশ কয়েক জন ছাত্রনেতাও কর্মচারীদের এই ধর্মঘটের সমর্থনে এগিয়ে আসে। ছাত্রদের সহযোগিতা ও সমর্থন কর্মচারীদের মধ্যে বিশাল সাহস জোগায়। ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে ও পরিচালনায় কর্মচারীদের আন্দোলন তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুসহ ২৭ জন ছাত্র-ছাত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুকে জরিমানা ও মুচলেকা দেওয়ার শর্তে তাঁর ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু মুচলেকা দিয়ে এই শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা শেখ মুজিবের কাছে মর্যাদাপূর্ণ মনে হয়নি।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪-০৮-২০১০ তারিখের এক সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব কেড়ে নেওয়ার তৎকালীন সিদ্ধান্তটি বাতিল করেছে এবং এখন বঙ্গবন্ধুকে ছাত্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এ সব কথাই পরম যত্নে বইটিতে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

সোলায়মান মোহাম্মদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

দৈনিক বিরাজমান

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০