মাত্র পাওয়া

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার

| ১৫ মার্চ ২০২০ | ৭:৫২ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার

মধ্য রাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে জেল-জরিমানা ও নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ওই ঘটনার তদন্ত করে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রবিবার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, তাকে (কুড়িগ্রামের ডিসি) প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। কর্ম অনুযায়ী শাস্তি হবে। তাকে প্রত্যাহারসহ বিধিমোতাবেক সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি কুড়িগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে সাজা দেয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত রিট শুনানিতে বলেছে, একজন সাংবাদিককে ধরতে মধ্য রাতে তার বাসায় ৪০ জনের বিশাল বাহিনী গেল, এ তো বিশাল ব্যাপার। তিনি কি দেশের সেরা সন্ত্রাসী? এ বিষয়ে দায়ের করা রিটের আংশিক শুনানিতে বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মোঃ রশিদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রবিবার এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। আজ সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।

এদিকে কুড়িগ্রাম থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সাংবাদিক আরিফুল এক লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা করেন। আরিফুল বলেন, ‘আমি আকুতি-মিনতি করি। আল্লাহর কসম দেই। সন্তানের কসম দেই। প্রাণ ভিক্ষা চাই তাদের কাছে। এরপরও তারা ক্ষান্ত হচ্ছিলেন না। তারা আমাকে বারবার কলেমা পড়তে বলছিলেন। এ সময় আরডিসি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।’ অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এনকাউন্টার করা হবে বলে জানানো হলে এমন আকুতির কথা জানিয়েছিলেন সাংবাদিক আরিফুল। পরে তাকে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে বিবস্ত্র করে অমানুষিক নির্যাতনসহ তার ভিডিও ধারণ করা হয়। জামিন পাওয়ার পর পরেই আরিফুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় উপরোক্ত কথাগুলো সাংবাদিকদের বলে কেঁদে ফেলেন আরিফুল ইসলাম। তখন এক আবেগ ঘন পরিবেশ তৈরি হয়। তাকে জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়। তার এই জামিন নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্বজনরা।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রবিবার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, তাকে (কুড়িগ্রামের ডিসি) প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। কর্ম অনুযায়ী তার শাস্তি হবে। তাকে প্রত্যাহারসহ সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হতে পারে। খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে অনেক অনিয়ম দেখেছি। বিভাগীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। অহেতুক যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে; সত্যতা পেয়েছি বিধায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও উর্ধতন কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। ডিসি প্রত্যাহারের আদেশ জারির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী নেই; মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সংশ্লিষ্ট ফাইল অনুমোদন করলে ডিসিকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হবে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত