মাত্র পাওয়া

উলঙ্গ করে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে সাংবাদিক আরিফুলকে

| ১৪ মার্চ ২০২০ | ৪:০০ অপরাহ্ণ

উলঙ্গ করে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে সাংবাদিক আরিফুলকে

গভীর রাতে বাসার গেট ও ঘরের দরজা ভেঙে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে ধরে মারধর করতে করতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার কাপড় খুলে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করে পুরো দৃশ্য ভিডিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আরিফুলের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার নিতু।

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০ দুপুরে কুড়িগ্রাম কারাগারে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রী দেখা করতে গেলে আরিফুল এসব তথ্য জানান। আরিফুল ইসলাম স্ত্রীকে জানান, মধ্যরাতে তাকে বাসা থেকে জোর করে তুলে আনার পথে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত লাথি-থাপ্পড়, ঘুষি মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তার দুই চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর প্যান্ট ও গেঞ্জি খুলে তাকে উলঙ্গ করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এসব দৃশ্য ভিডিও করা হয় বলে জানিয়েছেন আরিফুল। তিনি আরও জানান, যারা তাকে নির্যাতন করেছে, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা। তাদের দেখতে না পারলেও তাদের সবার গলার স্বর তার মনে আছে।

মোস্তারিমা সরদার নিতু আরও জানিয়েছেন, ‘আমার স্বামী খুবই অসুস্থ। সে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছে না। আমাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলার মতো শক্তি ছিল না তার।’

তিনি আরও জানান, ‘শুক্রবার রাতের অভিযানে আরডিসি নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তাকে চিনতে পেরে সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করি। ওই সময় ওই কর্মকর্তা আমাকে জানান, আমার স্বামী মাদকসেবী, এটা তাদের কাছে প্রমাণ আছে। আমি এর প্রমাণ দাবী করলে তিনি তড়িঘড়ি করে চেয়ার থেকে উঠে চলে যান।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন অভিযানে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি গতরাতে ওয়ার্ক স্টেশনে ছিলাম না।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২০ দিবাগত মধ্যরাতে ডিসি অফিসের দুই-তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে নিয়ে বাইরে থেকে গালাগাল করতে করতে এক পর্যায়ে দরজা ভেঙে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের বাসায় ঢুকে তাকে মারধর করে ‘তুই অনেক জ্বালাচ্ছিস’ বলে ধরে নিয়ে যায়। সেসময়ে ডিসি অফিসের ম্যাজিষ্ট্রেট কোনও তল্লাশি অভিযান না চালালেও ডিসি অফিসে নেওয়ার পর তারা দাবি করে, আরিফুলের বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। ডিসি অফিসে রাত ২টার সময় মোবাইল কোর্ট বসানো হয়। এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে রাত আড়াইটায় জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়।