মাত্র পাওয়া

কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ

| ৩০ জুলাই ২০২০ | ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ

দীর্ঘ একত্রিশ বছর পর কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দিল সরকার। এর আগে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত কাঁচা চামড়া রফতানি হয়েছে ভারত ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। কেস-টু- কেস ভিত্তিতে এ চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর আমদানি ও রফতানির প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে কাঁচা চামড়া নিয়ে কারসাজি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ন্যায্যদাম নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া করোনা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে কোরবানির প্রায় এক কোটি পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা কারসাজির সুযোগ না নিলে সারাদেশে সরকার নির্ধারিত ন্যায্যদামে বিক্রি হবে চামড়া। অন্যদিকে চামড়া কিনতে সরকারী-বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার তহবিল দেয়া হচ্ছে ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও মহাজন ব্যবসায়ীদের।

এদিকে, এছাড়া চামড়া সংরক্ষণ ও মজুদকরণে সারাদেশে ন্যায্যদামে লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কোথাও কোন অনিয়ম হলে সরকারী মনিটরিং টিম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চামড়া পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি রাখবে বিজিবি। রাজধানী ঢাকা থেকে চামড়াবাহী কোন ট্রাক বাইরে যেতে দেয়া হবে না। তবে কাঁচা চামড়া রফতানি হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে। সাভার চামড়া শিল্পনগরীর ১২৫টি ট্যানারি উৎপাদনে গেছে। এর বাইরে পোস্তার প্রায় ৩ শতাধিক আড়তদার ব্যবসায়ী কাঁচা চামড়া কিনে সংরক্ষণ করে থাকে। এছাড়া সারাদেশে কয়েক লাখ মৌসুমি ব্যবসায়ী নিয়োজিত থাকে চামড়া কেনাবেচায়। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, নাটোর ও রাজশাহী জেলায় চামড়ার বেশ কয়েকটি বড় আড়ত রয়েছে। কোরবানি পরবর্তী সময়ে আড়তদাররা চামড়াগুলো ট্যানারিতে বিক্রি করে থাকেন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন এবার কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়া হতে পারে। এর আগে ট্যারিফ কমিশন তাদের প্রতিবেদনে কাঁচা চামড়া রফতানির সুপারিশ করেছিল।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ট্যানার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ শাহিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্তটি ছয় মাস থেকে এক বছরের জন্য হলে ভাল হয়। এখন ট্যানারিতে বিপুল সংখ্যক চামড়া মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া কেনাবেচায় ব্যাংক ঋণ একটি বড় বিষয়। ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি আছে। তবে ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শর্তের বেড়াজালে এ খাতের উদ্যোক্তারা সঠিকভাবে ঋণ পায় না। এটি একটি বড় সমস্যা। তিনি বলেন, কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ও মজুদে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার একটিও পূরণ হয়নি। অথচ কোরবানির চামড়া কিনতে ৬০০-৭০০ কোটি টাকার তহবিল প্রয়োজন। চামড়া কিনতে ব্যাংক ঋণ আরও সহজ হওয়া প্রয়োজন।

চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ করা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠন করা একটি টাস্কফোর্স রয়েছে। শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত হচ্ছে এবার কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়া। এ নিয়ে পরে সম্পর্কিত সব পক্ষের সঙ্গেও সরকার আলোচনা করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সবার সঙ্গে আলোচনার পর মনে হয়েছে আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে কাঁচা চামড়ার চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য রফতানি নীতি ২০১৮-২০২১-এর অনুচ্ছেদ ৯.১৫ এ কাঁচা ও ওয়েট ব্লু-চামড়া রফতানিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা প্রয়োজন।

চামড়া কিনতে সহজ ঋণ ॥ এবার চামড়া কিনতে চারটি সরকারী ব্যাংক থেকে ৪৬২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হবে। এর পাশাপাশি বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলো আরও ২৫০- ৩০০ কোটি টাকার ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ট্যানারি এ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ বলেন, গতবছরের ঋণ ব্লক হিসেবে রেখে এ বছর নতুন করে ৫ থেকে ৬শ’ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার দাবি করা হয় ব্যাংকগুলোর কাছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো ততটা আগ্রহী নয়। এদিকে বেসরকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে পূবালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক মিলে প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বাণিজ্য মেলার পর্দা নামছে আজ

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আকাইর্ভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (রাত ১০:২৩)
  • ১৩ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৩শে জিলহজ ১৪৪১ হিজরি
  • ২৯শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ

চোখের জল ধরে রাখা অসম্ভব:– ফজলুর রহমান বাবু

error: Content is protected !!