মাত্র পাওয়া

ইতালিতে দুই লাখ বাংলাদেশি গৃহবন্দি

| ১৩ মার্চ ২০২০ | ৫:৩৬ অপরাহ্ণ

ইতালিতে দুই লাখ বাংলাদেশি গৃহবন্দি

করোনা ভাইরাসের তান্ডবে ইতালির প্রায় দুই লাখ গৃহবন্দী প্রবাসীর ভাগ্য অনিশ্চিতায় পড়েছে। সরকারি ঘোষণায় বাধ্য হয়েই বাসায় বন্দী কর্মহীন জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে চরম উৎকন্ঠা-হতাশা ও দুশ্চিন্তা। ব্যবসা-বানিজ্যে নেমে আসছে চরম ধ্বস। সার্বিকভাবে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে পুরো ইতালি, সেইসাথে ভয়াবহ শংকায় প্রায় দুই লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির ভবিষ্যত।

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এই প্রথম শুক্রবার ইতালির কোন উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিকেলে মোৎসিকাতো (৫৯) মারা গেছে। ইতালির কাতানিয়া শহরের বাসিন্দা ছিল এই সেনা কর্মকর্তা। সবমিলিয়ে ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে।

অপরদিকে, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চীনের ৯ সদস্যের একটি বিষশষজ্ঞ চিকিৎসক দল বৃহস্পতিবার মধ্য রাতের দিকে ইতালির রাজধানী রোমে পৌঁছিয়েছে। চীন সরকারের সিদ্ধান্তে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশন এবং রেড ক্রস সোসাইটি অব চায়নার এক্সপার্ট টিম সাথে নিয়ে আসছেন বিশেষ কিছু জরুরি গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস। শুক্রবার দুপুরে বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসক টিমের সাথে তাদের কর্মপরিধি নিয়ে বৈঠক করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইজি ডি মাইও।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছে যারা রাজধানী রোম, মিলান, ভেনিসসহ অন্যান্য শহরে বাস করে। ইতালির শিল্পোন্নত শহর মিলানোতেই প্রথম হানা দেয় করোনা ভাইরাস। সেখান থেকে পুরো দেশ আজ আক্রান্ত এবং সেইসঙ্গে দেশের সবকিছু স্থবির। এতে ইতালির প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষই এখন গৃহবন্দী। হাসপাতাল, ফার্মেসি ও সুপারসপ ছাড়া সবকিছুই বন্ধ রয়েছে গত চারদিন। কিন্তু এতোকিছুর পরও এখন পর্যন্ত করোনার হানা থামানো যায়নি। বরং গত চারদিনে আক্রান্তের সংখ্যা উল্টো বেড়েছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে হাজার হাজার চাকরিজীবীরা এখন কর্মহীন। এদের থাকা-খাওয়া এবং পরিবারের ব্যয় নির্বাহ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পাশাপাশি যারা পরিবার নিয়ে থাকেন তাদের বাসা ভাড়া এবং অন্যান্য ব্যয় নিয়েও মহা-চিন্তায় আছেন। একইসঙ্গে খাবারের যোগানও কমছে দিনদিন। সুপারসপে দীর্ঘ লাইন ও প্রচুর ভীড়। চাহিদা অনুযায়ী যোগান অনেক কমে গেছে এবং প্রয়োজনের অনেক কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ইতালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ইতোমধ্যে সকল শহরের দলীয় নেতাদের সর্বাত্মকভাবে প্রবাসীদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনোবল হারাবেন না এবং মনোবল শক্ত রেখে সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির মেকাবেলা করতে হবে। যেকোন প্রয়োজনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন, সেই সাথে রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইনে ফোন করে সহায়তা নেয়া যাবে। একইসাথে তিনি সকলকে সরকার ঘোষিত আইন মেনে সাময়িকভাবে বাসায় অবস্থান করার আহ্বান জানান।

রোমের পিয়াচ্ছা ভিত্তোরিওর স্মরনিকা আলিমেন্টারির স্বত্তাধিকারী মাকসুদুর রহমান (কচি) এ প্রতিবেদককে জানান, ভাইরাসকে ভয় পাওয়ার কোন যুক্তি নেই। স্ব-স্ব অবস্থান থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করবেন। সরকার যে ষোঘণা দিয়েছে সেটি মেনে চলবেন যাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কোন হয়রানির শিকার না হতে হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতালিসহ বিশ্বের ১৩৫ দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৩৭ জন। মারা গেছে ৫ হাজার ১২০ জন। আর সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরছেন সত্তর হাজার ৭৩৩ জন। এর মধ্যে চীনের পরেই শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে ইতালি, আক্রান্ত ১৫ হাজার ১১৩ জন। মারা গেছে এক হাজার ১৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে এক হাজার ২৫৮ জন। সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত