মাত্র পাওয়া

বাবা দিবস ও নারী

| ২২ জুন ২০২০ | ১:২৪ অপরাহ্ণ

বাবা দিবস ও নারী

খুব সহজ কথাটি কিন্তু উপলব্ধির জায়গাটি জটিল সমীকরণে আবৃত । আমার মেয়েটি আজও আমাকে বাবা দিবসের জন্য ছবি উপহার এনে দিয়েছে । আমি ছোটবেলা থেকে তাকে দেখেছি তার মনের গহীনে আমার জন্য একটি আলাদা প্রকষ্ঠ তৈরী করা আছে । শৈশবের প্রচন্ড আবেগের জায়গা থেকে কোন মেয়ে যখন আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠে তখন তার বাবার অনেক কিছুই তার মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি করে । মেয়েরা বাবার বেশী কাছে থাকে । আদুরে ভালোবাসায় সব মেয়েরাই বাবার আনন্দের জায়গায় যেন একটি কান্না ঘেরা বাগান । সেই ছোটবেলা থেকে আস্তে আস্তে পরিপূর্ণ নারী হয়ে ওঠা বাবার হাত ধরে । যখন বাবা কোন মেয়ের উপর নির্ভর করবে বা মেয়ের কাছ থেকে আদর, ভালোবাসা, যতন, দায়িত্ব নেয়ার মত ক্ষমতা দেখতে পাবে ঠিক তখনই মেয়েরা চলে যায় অন্যের ঘরে । অন্যের ঘরে গিয়ে মেয়েদের সাজাতে হয় নতুন আলো । আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমনিভাবেই চলে আসছে ।

আজ বাবা দিবসের দিনে বিবাহিত নারীরা কতজন তার বাবার সাথে ছিলেন ? কোন নারী কি একা একাই বাবা দিবস বুঝেছেন । হয়ত তার স্বামী তাকে একবার বাবা দিবসের কথাটি মনে করতেই দেয়নি অন্যান্য কাজের মধ্যে রেখে ! আমার মেয়ের মাও তার বাবার কাছে যেতে পারেনি । দেখেছি তার খুব মন খারাপ হয়েছে । বাবা দিবস বাবা দিবস বলে আমরা যখন চিৎকার করি তখন নারীদের আত্নাটা পড়ে থাকে বাবার কাছে । তারও একটি শৈশব আছে, তারও ছেলেবেলার স্মৃতিতে বাবা নামক মানুষটিই ছিলো প্রধান হিরো । দিন চলে গিয়ে বাবা এখন বৃদ্ধ । এক সময় কন্যা যখন বাবার ঘাড়ের উপর চড়ে ভাত খাওয়ার বায়না ধরতো এখন সেই বাবাই প্রচন্ড রকম নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে । নারীরা জানে তার বাবা আজ নতজানু কিন্তু স্বামীর বাড়ির দায়িত্ব, সময়ের বড্ড অভব আর এখন করোনা কালীন সময়ে বৃদ্ধ মানুষের কাছে না যাওয়ার অবস্থা তৈরী হওয়া সবকিছু মিলে নারীর আত্নার ভাংচুর সত্যিই প্রচন্ড রকম যাতনার ।

গতকাল আমার মেয়ে আমাকে বলছিলো তাকে যেন চুল বেঁধে দেই । সেও প্রায়ই আমার চুল ঝুটি করে দেয় । আত্নার গহীন বনে বাবা দিবসের নামে মেয়েদের কাছে বাবার যে ছবি থাকে তা ফেইসবুকের ওয়ালে না এলেও মনের দেয়ালে স্পষ্ট মূল্যবান কারুকার্য । অনেক নারীই আজ বাবা দিবস নিয়ে লিখতে চেয়েছে । মোবাইল স্ক্রিনে হাত দেওয়ার সাথে সাথে চোখে জল এসেছে আর ভেবেছে বাবার কাছেই যেতে পারলাম না লিখে আর লাভ কি ! বাবা ডাকটি ডেকে ডেকে হয়ত বালিশ ভিজিয়ে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়া নারীর জীবনে এই না পাওয়াটুকুর কোন শেষ নেই । শেষ না হোক কিন্তু বাবার দিনে বাবার কাছে থাকাটাই শ্রেয় ।

অন্তত যেদিন জন্মদিন, বাবা দিবস এবং মা দিবস সে দিনগুলোতে নারীদের বাবা মার কাছে থাকাটাই শ্রেয় । আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিলো আজ নিতুর মাকে তার বাবার কাছে নিয়ে যাবো কিন্তু করোনা তা করতে দেয়নি । তবে সামনের দিনগুলোতে সবার সন্তান যেন তার বাবার কাছে থাকতে পারে, বিশেষ করে নারীরা যাতে বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে ভালোবাসা নিয়ে এসে অন্তত কয়েক অক্ষর লিখার সাহস করতে পারে সেজন্য বাবার কাছে নিয়ে যান ।

বাবা একজন ব্যক্তি নয় বাবা হচ্ছেন একটি পথ, বাবা হচ্ছেন একটি পথ প্রদর্শক, একটি জলযান, আকাশযান, বাবা হচ্ছেন প্রকান্ড ঘুর্ণী ঝড় থেকে বাঁচার আশ্রয় কেন্দ্র, বাবা হচ্ছেন পুরো ফসলের খেতে ফলন ধরা কোটি কোটি বৃক্ষ !
সব বাবাই তার সন্তানকে জড়িয়ে ধরতে পারুক আনন্দে, একবার চোখের জল ফেলে নারী হয়ে ওঠা সেই ছোট্ট মেয়েটিকে কল্পনায় এনে আবার বলুক- আয় খুকু আয়।

লেখকঃ সাঈদ চৌধুরী, কলামিস্ট ও রসায়নবিদ।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আকাইর্ভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (দুপুর ২:২২)
  • ১৩ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৩শে জিলহজ ১৪৪১ হিজরি
  • ২৯শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ

চোখের জল ধরে রাখা অসম্ভব:– ফজলুর রহমান বাবু

error: Content is protected !!