মাত্র পাওয়া

সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূটি স্থগিত করেছে বিএনপি

| ১০ মার্চ ২০২০ | ৭:২৫ অপরাহ্ণ

সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূটি স্থগিত করেছে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছিল দলটি। তবে এরই মধ্যে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি সনাক্ত হওয়ায় এবং জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ আসায় ওই কর্মসূটি স্থগিত করেছে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সকল মহানগর ও জেলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু মুক্তির দাবিতে আমরা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটায় জনসমাবেশে আগতরা যাতে এই ভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়তে না হয়, সেজন্য ওই কর্মসূচি আমরা আপাতত স্থগিত ঘোষণা করছি। করোনাভাইসরাসে আক্রান্ত রোগীদের আশু আরোগ্য কামনা ও এই রোগ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান তিনি।

দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের করোনাভাইরাসে প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুঃস্থ রোগীদের সুচিকিৎসা এবং রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরঞ্জাম নিয়ে জনগণের পাশের থাকার জন্য আমি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতাদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, শওকত শাহিন ।

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো নভেল করোনাভাইরাস এখন বাংলাদেশে চলে আসায় সব স্কুল দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা মনে করি, স্কুল-কলেজ, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। অন্ততঃ প্রথম দিকে দুই সাপ্তাহ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তারপর অবস্থা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতেই প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি রুটিন জমায়েত হয়। শিশুদের পাশাপাশি অভিভাকরাও স্কুলে যাতায়াত করেন। আর নভেল করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে যেহেতু জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সেহেতু আপাতত দুই সপ্তাহ স্কুল বন্ধ রাখাই নিরাপদ হবে। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল সরকার তা নিতে ‘ব্যর্থতার পরিচয়’ দিয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা জানেন যে, তিনটি হাসপাতালকে ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে কুর্মিটোলা হাসপাতাল। ওই হাসপাতাল থেকে সাধারণ রোগীদের সরানো হয়নি। করোনাভাইরাস আর ডেঙ্গু তো এক জিনিস নয়। করোনাভাইরাস এতো ছোঁয়াচে যে, অন্যান্য রোগীরা সেখানে আক্রান্ত হয়ে পড়বেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারের উচিত ছিল সেখান থেকে অন্য রোগীদের সরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের রাখার ব্যবস্থা করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা করা হয়নি। ডাক্তার ও নার্সদের যে ট্রেনিং দেওয়া দরকার তা এখনোও দেওয়া হয়নি।

সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইতালি থেকে ঢাকা প্রত্যাগত ২ ভাইয়ের রোগ বিমান বন্দরে সনাক্ত হয়নি। দেশের ফেরার ৪ দিন পর যখন তাদের অবস্থার অবনতি ঘটায় তারাই উদ্যোগী হয়েছেন তখন সরকার তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে। কিন্তু ইতোমধ্যে তাদের একজনের স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তগণের সংস্পর্শে যারা এসেছিল তাদের তৎক্ষণাৎ কোয়ারেন্টাইনে না নেয়া সরকারের আরেকটি ব্যর্থতা। ৩ দিন পর মাত্র গত সোমবার এমন ৪০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়ার কথা জানা গেল।

তিনি বলেন, যে ফ্লাইটে তারা ঢাকা এসেছেন সেই ফ্লাইটের অন্যান্য যাত্রীরা, বিশেষ করে যারা কাছাকাছি বসেছিলেন, দীর্ঘ ভ্রমণের সময় তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকা সত্তে¡ও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে জনসচেতনতা নিশ্চিত করার জন্য মিডিয়া সহ সরকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে যেমন তরিৎ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন ছিল – তাও নেয়া হয়নি। মুজিব বর্ষ পালনের ডামাডোলে জনস্বার্থ অবহেলা করে সরকার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে প্রাক প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল- তাও নিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের প্রয়োজন বাড়বে জানা সত্তে¡ও তা যথেষ্ট পরিমানে আমদানী কিংবা উৎপাদনের কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গত পরশু সন্ধ্যার মধ্যেই বাজারে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে লাখো মানুষ বিনা মাস্কে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারে জীবিকার তাগিয়ে জনবহুল স্থানে গমনাগমন করে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হয়েছে।
সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত রোগী ও সাম্ভব্য আক্রান্তদের সুচিকিৎসা ও ভাইরাসের প্রকোপ যাতে না বাড়ে সেজন্য সর্তকতা ও প্রতিরোধমূলক যাবতীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকারের ব্যর্থতা জনগণ কখনো ক্ষমা করবে না। কারণ জনগণ ১৯৭৪ সালের মত আরেকবার গণমৃত্যুর শিকার হতে চায় না।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আকাইর্ভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার ( বিকাল ৪:০৯ )
  • ১২ই জুলাই ২০২০ ইং
  • ২০শে জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
  • ২৮শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ( বর্ষাকাল )

হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ

চোখের জল ধরে রাখা অসম্ভব:– ফজলুর রহমান বাবু

error: Content is protected !!