মাত্র পাওয়া

একজন রবিন এবং অনেকগুলো স্বপ্ন

| ১৭ জুন ২০২০ | ১০:০৯ অপরাহ্ণ

একজন রবিন এবং অনেকগুলো স্বপ্ন

আমার বন্ধু মোঃ জাহিদুল আলম রবিন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, গাজীপুর জেলা শাখা। আজ রবিনকে নিয়ে লিখছি…

রবিনকে নিয়ে এমন একটা সময়ে লিখছি যখন পুরো শ্রীপুর তথা গাজীপুরবাসী রবিনের জন্য প্রাণ ভরে দোয়া করছেন। কারণ রবিনের করোনা পজেটিভ।

রবিনকে ছোটবেলা থেকেই চিনি-জানি। মানুষ ও মানবতার কাজে সে একজন নিরলস কর্মী। যেখান থেকেই মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ডাক আসে রবিন ছুটে যায় তার সাধ্যমতো সাহায্য নিয়ে। আমি খুব সচেতন ভাবেই তার নামের আগে ‘মানবতাকর্মী’ বিশেষণটি যুক্ত করেছিলাম। এই মানুষটি কোনও ভণ্ডামি ছাড়াই মানবতার পক্ষে কাজ করেন নিজের সবটা দিয়ে।

টাকা অনেকেরই আছে। কয়জন জানে সেই টাকার শুদ্ধ ব্যবহার? অনেকের নামের আগেই বড় বড় সব বিশেষণ যুক্ত করতে দেখি। কিন্তু কয়জন আছে যাঁদের হৃদয় কাঁদে এমন করে? কয়জন আছে যে সবার সুখে হাসে, আর সবার দুঃখে কাঁদে?

আমার সঙ্গে রবিনের অনেক সময় কাটে। অনেক কথা হয়। বেশির ভাগ কথাই হয় মানুষ নিয়ে। সেই মানুষগুলো যাঁরা উন্নত জীবন যাপন করেন না। যাঁদের মাথার উপর ছাদ নেই, থাকলেও তা খুব নড়বড়ে, নাজুক। কথা হয় সেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে যারা শুধু অর্থাভাবে পড়ালেখার সঠিক মর্ম অনুধাবন করতে পারেনা। মাঝেমধ্যে আমি অবাক হই একজন মানুষ নিজের হাজারো ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজের মধ্যে থেকেও সারাক্ষণ এই ভাবনাগুলো কীভাবে করতে পারে! এটা ভেবেও কষ্ট হয় যে এই অঞ্চলের আরও দশজন মানুষ এমন করে ভাবেনা কেন?

আমি রবিনের অনেকগুলো পরিকল্পিত স্বপ্নের কথা জানি। আমি বিশ্বাস করি, সেই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন হলে আমাদের চির পরিচিত, কলুষিত এই সমাজব্যবস্থার তুমুল পরিবর্তন ঘটবে। অসহায়, খেটে খাওয়া মানুষগুলো মানুষের মতো বেঁচে ফিরবে। স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হওয়া খুব বেশি দরকার। সে জন্য রবিনকেও চাই। কারণ, এই জনপদের মানুষের জন্য একজন রবিন কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা ইতোমধ্যে আমরা জেনে গেছি।

আমাদের দেশে করোনা শুরু হওয়ার পর পরই রবিন আমাকে জিজ্ঞেস করলো কী করা যায়। তারপর নিজেই একটা পরিকল্পনার কথা বললো। একটা টিম গঠন করলে কেমন হয়। যেই টিম বিনা পারিশ্রমিকে মানুষের জন্য ঔষধ সরবরাহ করবে। আমাদের এম্বুল্যান্স সুবিধা থাকবে। ডাক্তার থাকবে। যাঁরা মোবাইল ফোনে রোগীদের পরামর্শ দেবেন। সেই ভাবনা থেকেই রবিনের নেতৃত্বে আমরা ‘Quick Response Team’ তৈরি করলাম। ইতোমধ্যে পাঁচশতাধিক মানুষ আমাদের সেবা নিয়েছেন।

লকডাউনের শুরুর দিনগুলোতে যখন মানুষ কর্মহীন ও খাদ্যসঙ্কটে পড়লো তখন পাঁচশতাধিক মানুষের ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিলো নিজ দায়িত্বে।

রোজার মাসে আবারও রবিনের কল। বললো, “একটা নাম ঠিক করে দে। সারা রোজাতেই অসহায় ও ঘরছাড়া মানুষদের ইফতার করাবো।” নাম ঠিক করলাম ‘দশের ইফতার।’ সফল ভাবেই ত্রিশটা রোজাতেই আমরা প্রতিদিন অর্ধশত মানুষকে নিয়ে ইফতার করলাম।

এখানেই শেষ নয়, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দুই হাজার মানুষের ঘরে ‘ঈদ উপহার’ পৌঁছে দিলো মানবতার এই নিরলস কর্মী।

আজ রবিনের সময় ভালো যাচ্ছেনা। আশা করি খুব দ্রুত আরোগ্য লাভ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে রবিন, সৃষ্টিকর্তার কাছে এটুকু প্রার্থনা।

লেখক: মেহেদী হাসান রনী,
কবি। 

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০