মাত্র পাওয়া

অন্ধকার ঘরে সাপ এবং মাস্কের ব্যবহার

| ০১ জুন ২০২০ | ৫:৫৩ অপরাহ্ণ

অন্ধকার ঘরে সাপ এবং মাস্কের ব্যবহার

ধরুন এমন একটা ঘরে আপনি আছেন যে ঘরটাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এবং আপনি জানেন সেই ঘরে আপনি ছাড়াও আরেকটি প্রাণী আছে। সেটা হলো একটা গোখরা সাপ। তখন আপনার মনের অনুভূতি কী হবে? পায়ের উপর ভর করে ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারবেনতো? নাহ, পারবেন না। তার কারণ আপনার তখন মনে হবে ঠিক যেখানে আপনি পা রেখেছেন সেখানেই সাপটা কুন্ডলী পাকিয়ে ফণা তুলে বসে আছে। যেই পা রাখবেন অমনি সেই জাগ্রত ফণা উদ্ধতভঙ্গিতে ছোবল তুলবে। অর্থাৎ অন্ধকার ঘরে সাপ থাকা মানে পুরো ঘর জুড়েই সাপ। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিও এখন এমনটাই দাঁড়িয়েছে। শুরুতে এই রোগের বিস্তার ও বিস্তারমাধ্যম সম্পর্কে আমাদের যথেষ্ট ধারণা থাকলেও এখন আর নেই।

আমাদের জানাশোনার পরিধি ছাড়িয়ে এটা অনেকদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। যে কারণে এখন আর নিরাপদ জায়গা ও ব্যক্তি বলে কিছু নেই৷ সব একাকার। ঠিক এই কারণেই আমাদের প্রত্যেককে যত্ন করে যেটা করতে হবে তা হলো মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করা। কথা হলো কে মাস্ক পরবে? কারা মাস্ক পরবে? কী ধরনের মাস্ক পরবে? উত্তরগুলো একটু জটিল। তবুও সহজ করে বললে বলা যায় আমাদের প্রত্যেকেরই মাস্ক পরতে হবে। তার কারণ আমরা জানিনা বর্তমানে ঠিক কতজন ব্যক্তি কিংবা কারা করোনা নিয়ে ঘুরছেন। ব্যাপারটা ঠিক অন্ধকার ঘরে সাপ থাকার মতোই। তাই আগে যেটা বলা হচ্ছিলো যে, শুধু অসুস্থ ব্যক্তি মাস্ক পরলেই হবে, এই কথাটি এখন আর খাটবেনা। কারণ আমরা এখন আর খুব সহজে জানতে পারছিনা আমাদের মধ্যে কারা অসুস্থ। তার কারণ একজন মানুষের মধ্যে করোনার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেয়ার পর প্রথম দুই তিন দিন উনি নিজেই বুঝতে পারেন না কী হলো। হয়তো স্বাভাবিক জ্বর, হাঁচি, শরীর ব্যথা এমনটা ভেবে নেন। নেয়াটাই স্বাভাবিক। তারপর শরীর আরও বেশি খারাপ হলে তিনি ডাক্তারের কাছে যান, পর্যায়ক্রমে টেস্টের জন্য নমুনা জমা দেন। সেই রিপোর্ট আসতে সময় লাগে ৫/৭ দিন। কিন্তু এই কয়েকটা দিন অসুস্থ ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করার চেষ্টা করেন। আশেপাশের কাউকে হয়তো তিনি জানতেও দেন না নিজের অসুস্থতার খবর। রিপোর্ট আসার পর যদি দেখা যায় নেগেটিভ তবে মোটামুটি নিশ্চিন্ত। কিন্তু যদি পজেটিভ হয়? তবে বেশ সমস্যারই বিষয় এটা।

নিউইয়র্কে বসবাসরত ডাঃ ফেরদৌস সাহেবের মতে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলার সময়ও মুখ থেকে এই ভাইরাস বাতাসে চলে আসে এবং আট মিনিট ভেসে থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে যদি অন্য কেউ সেই বাতাসে শ্বাস নেন তবে তিনিও আক্রান্ত হতে পারেন এই ভাইরাসে৷ কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তি যদি যেকোনো পরিস্কার মাস্ক ব্যবহার করতেন তবে তার মুখ থেকে নির্গত ভাইরাসের ৮০ ভাগই মাস্কে আটকে থাকতো। যেহেতু বর্তমানে নানা অপ্রতুলতার কারণে আমরা জানতে পারছিনা আমাদের দেশের করোনা আক্রান্ত রোগীদের সঠিক সংখ্যা, কিংবা ঠিক কারা আক্রান্ত তাই এই মূহুর্তে সকলেরই মাস্ক ব্যবহার জরুরী। তাই সরকার মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে সমর্থন জানিয়ে আমাদের উচিত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সবাই মিলে এক সঙ্গে কাজ করা।

মনে রাখবেন আপনার উপর পরিবার, সমাজ এবং দেশের ভালো-মন্দ নির্ভর করছে। সবাই ভালো থাকুন, সচেতন থাকুন।

লেখকঃ মেহেদী হাসান রনী , কবি ও কলাম লেখক। 

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

করোনার সুফল!

১৩ এপ্রিল ২০২০

আকাইর্ভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার ( বিকাল ৪:২৪ )
  • ১২ই জুলাই ২০২০ ইং
  • ২০শে জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
  • ২৮শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ( বর্ষাকাল )

হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ

চোখের জল ধরে রাখা অসম্ভব:– ফজলুর রহমান বাবু

error: Content is protected !!