মাত্র পাওয়া

ক্রীড়ার আড়ালে জুয়া

| ০৭ মার্চ ২০২০ | ৩:১৬ অপরাহ্ণ

ক্রীড়ার আড়ালে জুয়া

জুয়া বা বাজী হচ্ছে এমন একটা খেলা যা লাভ বা লোকশানের মধ্যে ঝুলন্ত থাকে।জুয়া খেলায় মূলত নির্দিষ্ট পরিমানের অর্থ বা বস্তু নির্ধারণ করা হয়। তারপর কোনো একটি বিষয়ে দুই পক্ষ চুক্তি করে হার জিত নির্ধারণ করে। যে পক্ষ হেরে যায় সে অপর পক্ষকে সেই নির্ধারিত অর্থ বা বস্তু প্রদান করে। এই খেলায় হেরে যাওয়া বা জিতে যাওয়াতে উভয় পক্ষেরই ঝুকি নিতে হয়। জুয়া খেলায় বিজয়ী পক্ষ পুরস্কারের অর্থ কখনো সাথে সাথে পেয়ে থাকে আবার কখনো তা পেতে দেরী হয়। যদিও জুয়া খেলা প্রায় সব দেশেই আইন স্বীকৃত না। তবুও প্রতিনিয়তই এটি চলছে। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ি ৪৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলার পরিমান অর্থ জুয়া খেলায় ব্যবহৃত হয়েছে। যা ২০১৯ এ এসে ৪৯৫ বিলিয়ন মার্কিন মুদ্রায় এসে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে জুয়া একটি বড় মার্কেট দখল করে আছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে জুয়াঃ ইসলাম – ইসলাম ধর্মে জুয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন– “নিশ্চয় শয়তান মদ ও জুয়ার দ্বারা তোমাদের পরস্পরে শক্রতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির ও নামায থেকে বিরত রাখতে চায়, সুতরাং তোমরা কি এগুলো থেকে বিরত থাকবে’’? (সূরা মায়িদা, আয়াত-৯১) ইহুদি- প্রাচীন ইহুদি সম্প্রদায়েও জুয়াকে নিকৃষ্ট নজরে দেখা হত। এমনকি আদালতে কোনো জুয়ারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হত না। খ্রিষ্টধর্ম- খ্রিষ্টানদের অনেকে জুয়াকে বৈধ ও অনেক ধর্মযাজক অবৈধ ঘোষণা করেছে। জুয়ার প্রকারঃ বিভিন্ন রকম জুয়ার প্রচলন আছে। বর্তমানে জুয়াঘরে ও জুয়াঘর এর বাইরে জুয়া খেলা হয়। ভিডিও জুজু, লোটাখেলা ইত্যাদি জুয়াঘরে খেলা যায়। এছাড়া কার্ড,কয়েন টস,পাশা ইত্যাদি খেলা জুয়াঘরের বাইরেও খেলা যায়। বর্তমানে সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর হল ক্রীড়া অঙ্গন। ফুটবল, ক্রিকেট, ইত্যাদি খেলাতেও জুয়ারীরা বাজী খেলে থাকে। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ক্রিকেট খেলার মাঝে যেখানে দলে দলে বাজী হয়,বাজী হয় ওভার কিংবা প্রতি বলে। যার সাথে জড়িয়ে আছে দেশের যুবসমাজ শুধু যুব সমাজ না বালক কিংবা বৃদ্ধ অনেকেই জড়িয়ে আছে। এমন লোকজন আছে যাদের ক্রিকেট সম্পর্কে নেয় বিন্দু মাত্র ধারণা যাতে করে আরো বেশি প্রতারিত হচ্ছে জুয়াতে। এই জুয়া চলে সকল ধরণের খেলাতে আন্তর্জাতিক বা প্রিমিয়ার লীগ মহিলা কিংবা যুবদলের খেলা সব ক্ষেত্রে চলছে অবিরত। থাকছে প্রশাসন এর চুখের আড়ালে। দায় নিচ্ছে না কেহই। এতে করে যেমন ব্যক্তিগত জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি পরিবার সমাজ ও দেশের ক্ষতি করছে। অর্থিকভাবে বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।

কিছুদিন আগের ঘটনা যেখানে দেখা গেছে সম্রাট এর মতো লোকসহ আরো কতো জনকে একসাথে জুয়ার সাথে জড়িত। দেশের অনেক ভিআইপি ব্যক্তিদের নামও এসেছে। যা সমাজের একটি জটিল ব্যাধি।

নেতীবাচক প্রভাবঃ জরীপে জানা গেছে প্রাথমিকভাবে যারা কেবল বিনোদনের জন্য জুয়া খেলা শুরু করেছিল তাদের অনেকেই এটাতে আসক্ত হয়ে গেছে। এই আসক্তি তাদের বিভিন্ন কুকর্মের দিকে ঠেলে দেয়। জুয়ার অর্থ জোগারের জন্য তারা খারাপ অনৈতিক কাজ করতে শুরু করে। জুয়ায় হারানো অর্থ ফেরত পাবার জন্য জুয়ারীরা বারবার জুয়া খেলে। জুয়া ব্রেইনে মারাত্বক প্রভাব পরে, জুয়ারীরা চিন্তাগ্রস্থ ও অসহায়ত্ব অনুভব করে অসুস্থ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে জোর দাবি থাকবে যে কোন অবস্থাতে এই মারাত্মক নেশা জুয়াকে বন্ধ করা এবং এর সাথে যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। সেই সাথে যারা এই জুয়ার নেশার আসক্ত তাদেরকে সরকার এবং প্রশাসন এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। সেই সাথে ক্রীড়া অঙ্গনকে বিনোদনের জায়গায় ফিরিয়ে দেয়া এবং জুয়া মুক্ত রাখা।

লেখকঃ ইমরান হাসান, গাজীপুর।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জরুরি সভা ডেকেছে ঐক্যফ্রন্ট

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০