মাত্র পাওয়া

অবশেষে স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোর

| ০৬ মে ২০২০ | ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ

অবশেষে স্বপদেই থাকছেন বিদ্যানন্দ প্রতিষ্ঠাতা কিশোর

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যার প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বে অগণীত মানুষের আস্থা অর্জন করে সারা দেশের বিশাল সংগঠনে পরিণত হয়েছে ‘বিদ্যানন্দ’, হাজার হাজার বিপণ্ণ মানুষকে দিচ্ছে সহায়তা, সেই তরুণ উদ্যোক্তা কিশোর কুমার দাশ বিদ্যানন্দের প্রধান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে করোনাভাইরাস সঙ্কটের এই সময়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাসের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা।

তিনি কোভিড-১৯ ক্যাম্পেইন শেষ না হওয়া অবধি চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকছেন বলে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক সালমান খান ইয়াসিন জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, উগ্রবাদী কিছু সংগঠন আর ফেসবুক ইউজার কারও কারও নেগেটিভ কমেন্টে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন আমাদের চেয়ারম্যান। তাছাড়া কাজের এত চাপও তিনি সামলাতে পারছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থেকে কাজ করবেন। তারপর তিনি হঠাৎ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও আমরা তার রিজাইন লেটার অ্যাকসেপ্ট করি নাই। কভিড-১৯ ক্যাম্পেইন শেষ হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তিনি চেয়ারম্যানের পদে বহাল থাকছেন।

সালমান আরো বলেন, কিশোর কুমার দাস প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে গেলে যোগ্য কাউকে না পেলে পদটি শূন্য থাকবে।

কিশোর কুমার দাশ চুয়েট থেকে ২০০১ ব্যাচে পাস করা কম্পিউটার প্রকৌশলী। তিনি বাংলাদেশে প্রথম গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এর ব্যবস্থা করেন।  তিনিই প্রথম এক টাকায় আহার প্রজেক্টের মাধ্যমে পথশিশু ও বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করেন। লাখ লাখ মানুষ এই কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে।

এক টাকা চিকিৎসা প্রজেক্টের আওতা এই পর্যন্ত ২৫,০০০ এর বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রেস্ক্রিপশনের পাশাপাশি তিন দিনের ওষুধ পেয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় শিশু এবং বৃদ্ধদের।

এক গ্লাস দুধ প্রজেক্টের আওতায় বস্তির গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনাথালয় গুলোর যাত্রা শুরু। প্রায় তিন শতাধিক এতিম এবং হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ইতিমধ্যে চারটি অনাথালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আরো দুটো অনাথালয়ের কাজ চলছে।

আনন্দের সাথে শিক্ষালাভের মন্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বর্তমানে স্কুল আছে ৬ টি। বাসন্তী নামে একটি গার্মেন্টসে তৈরি হচ্ছে শীতের পোষাক। এছাড়া এক বছরে অনাথালয়ের ছেলেমেয়েদের জন্য বিভিন্ন উৎসবে বানানো হয়েছে নতুন কাপড়। পাঁচ টাকায় স্যানিটারি প্যাড চালু করা হয়েছে বস্তির দরিদ্র এবং ছিন্নমূল শিশু কিশোরীদের জন্য।

করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর ২৬ হাজার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার। এই খাবার স্বেচ্ছাসেবিদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যা মানুষের কাছে পৌছে দেন। সবকিছু সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্ত কিশোর কুমার দাসের উদ্ভাবনী চিন্তার ফলেই। সততা ও স্বচ্ছতা রেখে এ সব কাজ করার কারণেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে ‘বিদ্যানন্দ’কে।

২০১৩ সালের আগস্টে বিদ্যানন্দ নিয়ে বোন শিপ্রা দাশের সঙ্গে কথা হয়। এরপর নভেম্বর–ডিসেম্বরের দিকে বোন শিপ্রা দাশ এই ভাবনায় গতি আনেন। আর ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর বিদ্যানন্দের নারায়ণগঞ্জ শাখার যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিদ্যানন্দের চট্টগ্রাম শাখা কাজ শুরু করে ২০১৪ সালের মার্চ। সবশেষে ২০১৪ সালের জুলাইতে বিদ্যানন্দের মিরপুর শাখা খোলা হয়। বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার আর নারায়ণগঞ্জ শাখার পরিচালক শিপ্রা দুই ভাইবোন ব্যক্তিগত সঞ্চয় ঢেলে দেন এই স্কুলের জন্য।

আকাইর্ভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ( সকাল ৭:২৭ )
  • ২রা জুন ২০২০ ইং
  • ৯ই শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
  • ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ( গ্রীষ্মকাল )

হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ

চোখের জল ধরে রাখা অসম্ভব:– ফজলুর রহমান বাবু

Sepnil

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৭১০৩
সুস্থ
১৫০
মৃত্যু
১৬৩
সূত্র:আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩১১০২১৯
দেশ
১৮৫
মৃত্যু
২১৬৯৮৯
সূত্র:জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি
error: Content is protected !!