মাত্র পাওয়া

মানব বনাম ‘পশুমানব’ শুমারি সময়ের দাবী

| ৩০ এপ্রিল ২০২০ | ২:২৪ অপরাহ্ণ

মানব বনাম ‘পশুমানব’ শুমারি সময়ের দাবী

  • রাজীব দাশ

আমি যা লিখি-যশ, প্রতিষ্ঠা, খ্যাতি’র জন্যে নয়। আমার উপর কর্তৃত্বের দেনা, আমি এ পর্যন্ত পাঁই পাঁই করে পরিশোধ করে দিয়েছি। ফাঁকি, অজুহাত, মিথ্যা, ভন্ডামি, বিনয় সন্ত্রাস’র কারণে বিবেককে পরাজিত করিনি। সবজান্তা সমশের-পান্ডিত্য ভাব ও ত্যাজ্য!পদবী ব্যবহার করে আমিত্ব ভাবে সংযত। এমন কি! লেখালেখি সময়-টা আমার ঘুম, অবসর হতে কেটে নিয়েছি। আমার বিনোদন বলতে ঘুম আর পড়াশোনা। আমার এ পর্যন্ত নেই কোনও জন্মদিন! চাঁদকে-চাঁদ, ফুলকে-ফুল দেখেছি।মনটা চাঁদ পানে চেয়ে কখনো উতলা হয়নি, ফুলের ঘ্রান, বাঁশীর -সুর হৃদয় নিংড়ানো ঝংকার কখনো বেজে উঠেনি এখনো। এতোদিনে নিজের ঢোল নিজে পেটালাম। কারণ আমার মতো হতচ্ছাড়া’দের নিয়ে চিন্তা করে কারো উলুবনে মুক্তাছড়ানো এক-ই কথা!

হিটলার, মুসোলিনী, নীৎশে অনেক অনেক প্রতিভার অধিকারী। এঁরা কেউ ধ্বংসবাদ, ঈশ্বর যেখানে মৃত -তত্ব নাৎসীবাদ প্রবক্তা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পৃথিবীকে কাঁপানো গুণধর! মানবসভ্যতা এদের কাছে ভূ-লুন্ঠিত!এদের কলংকের দগদগ ঘা নিয়ে এখনো অনেক দেশ বয়ে বেড়াচ্ছে।পৃথিবীকে নাকানিচুবানি খেতে বেশি লোকের দরকার নেই। সমাজ’কে পাপ-পংকিলে ভরে দিতে হাতেগোনা কিছু লোক-ই যথেষ্ট। বিদেশের কথা বাদ দিয়ে নিজের চিন্তা করি। হাজারো লেখক, কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, তাঁদের আবিস্কার তাত্ত্বিক দর্শন মানব কল্যানে উৎসর্গ করলে ও বিশ্বে- দেশে প্রকৃত-মনন-নন্দন সমৃদ্ধ মানুষ সংখ্যালঘু! ষান্ডা মার্কা চরম স্বার্থপর ভোগ দর্শন-নিয়ে তৈরী হয়েছে মানবসমাজ। হু-হু করে। ধর্মের বিভাজনে ছিন্নবিচ্ছিন্ন মানুষ!বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশ। “আস্তে-আস্তে” আমি “মানুষ”বলার অধিকার মুল্যবোধ টুকু মানুষ হারিয়ে ধূর্ত হিংস্র হায়েনা প্রজাতিভুক্ত হয়ে পড়েছে! কথিত মানুষের কাছে ও মানুষ নিরাপদ নয়।কুকুর-বেড়াল এমন কি হিংস্র বাঘ -সিংহের কাছে মানুষ নিরাপদ। বলে লাভ নেই।

এখন পৃথিবীতে বাঁচার তাগিদে মানুষকে দু’টি ভাগে শ্রেণী চিহ্নিত দরকার হয়ে পড়েছে। মানুষ, মানুষরূপী পশুমানব অর্থাৎ মানুষ অবয়ব কিন্তু ধারণে শতভাগ পশু। বিশ্বে’র রাষ্টযন্ত্র যতো তাড়াতাড়ি এ মানব পশুদের চিহ্নিত করবে, ততো তাড়াতাড়ি প্রকৃত মানুষের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। আসুন, আমরা মানব- পশু -গননা শুরু করি। সবাই সরব হয়ে দেশে-বিদেশে “পশু মানব শুমারী দিবস” হিসেবে বছরে অন্তত একটি দিন পালন করলে তবে-ই এ ভয়ংকর “মানব পশুদের”হাত হতে প্রকৃত মানব মুক্তি পেতে পারে। জাতীয় পরিচয়ে “মানব পশু”চিহ্নিত করা খু্ব-ই জরুরি। আজ পরিবার-সমাজ-দেশ মানব পশুদের ভয়ংকর থাবায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন! “মানব পশু”পরিচয় পেলে তাদের দলে অন্ততপক্ষে কিছু নতুন রিক্রুট বন্ধ হবে। এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে মানবপশু’দের বিচরণ নেই! পেনাল কোডে’র ধারায় ইংরেজরা এ উপমহাদেশের জনগনের কপালে মানবপশু হেতু অনেক” কলংকের তিলক” পরিয়েছেন। এ কলংক ফোঁটা কষ্মিনকালে ও উঠে কিনা সন্দেহ! মৃতদেহের সাথে থাকা জিনিসগুলো চুরি, ধনাত্নক, ঋণাত্নক, স্হুল, সুক্ষ্ম এমন কোনও অপরাধ নেই যে–“মানবপশু “করেননি!

 এ ” মানবপশু” শত, হাজার, লক্ষ, নিযুত, কোটি পেরিয়েছে। প্রতিদিন-ই হাজারো নারীর সম্ভ্রম, আশা, প্রাণ কেড়ে নেয়। দুধ শিশুদের দিয়ে “মানবপশু “এখন বিকৃত রুচির ভোগে উন্মত্ত হয়, উদ্বাহু করে নাগিনী ড্যান্স করে। যে দিকে তাকানো যায় -মানবপশু -ঠাঁসা পরিবার, সমাজ, দেশ-বিদেশ। বিশ্বাস, স্নেহ-মায়া, প্রেম, আবেগ বহুরুপী! আমাদের প্রজন্মান্তর কি আস্তে -আস্তে দলছুট হয়ে “পশুমানবের”দলে ভিড়ে একজন “মানু্ষ” ও অবশিষ্ট রাখবেনা? সবাই একমানব পশুমানব, একদেশ- পশুদেশ! হয়ে যাবে? পশুমানবের হাতে ধীরে-ধীরে চলে যাচ্ছে সব ভালো বিশেষণ। তৈরী হচ্ছে চরম হিংস্র স্বার্থপর হৃদয়হীন পারিবারিক বন্ধন। বর্ণশংকর-যৌনতা, শঠ, সবমিথ্যা, চরম ভন্ডামি জীবনবোধ, হৃদয়হীন শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অস্হির কুম্ভিল ভাবনা কুঁড়ে খাচ্ছে সবখানে।

পশুমানব সংজ্ঞা এখনো সবার হৃদয়ে অনুপস্হিত! একদিন সাদরে গ্রহণ করতে হবে! তখন কিছু-ই করার থাকবেনা। ততোদিনে সাভার এলাকা জুড়ে তৈরী হবে-“মানব”চিড়িয়াখানা।”পশুমানব সম্প্রদায়”তাদের চিত্রবিচিত্র ভাষা, কুম্ভিল ভাবনা, পোষাক, সংস্কৃতি, শালী’র বোন “ভোজালি” নিয়ে আপনার গো-জায়গায় সুঁড়-সুঁড়ি দিয়ে কৌমার্য-সম্ভ্রম হরণে রতি-উপ-পতি বরণ করতে বাধ্য করবে। ভেবেছেন কি হবে? এখন ওরা সরব-নীরবে করে, আলো আঁধারি’তে নেশা মিশিয়ে করে, প্রতারনা, ছল, চোখের জল দেখিয়ে করে। রাজি না হলে রাতে ডাকাত সেজে করে, জানালার গ্রীল কেটে করে, চরম সুখ না পেলে মেরে ফেলে। অফিস,বাসা-ছাদ বাজার, মাছ, মাংস দোকান, উড়োজাহাজ, ট্রেন, লঞ্চ, রাজনীতি, সমাজনীতি, গ্রীষ্ম, শীত, বসন্ত স্কুল-কলেজ,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এখন সবখানে “পশুমানব” ঠাঁসা! ভরপুর। এরাই এখন সবজান্তা সমশের।

এখনো যাঁরা শত বাঁধা পেরিয়ে মানুষ পরিচয়ে টেনে-টুনে পশু-মানবের অর্বাচীন ভাবনা, আদেশ নির্দেশ পালন করছি! তাদের সীমাহীন দৃশ্য-অদৃশ্য অত্যাচার ক্ষমাহীন শর্তে কান্নাখেকো জল,বোবাকান্না নিয়ে সরব-নীরবে সহ্য করছি! এবার একা, বোকা না সেজে হিটলার-মুসোলিনী -নিটশে’র চিন্তার দানবীয় ভাবনার বাইরে এসে মানব বনাম “পশু- মানব” সংজ্ঞাজাত করে পরিবার-সমাজ-দেশ-বিদেশে মানব বনাম”পশুমানব শুমারি”দিবস করে জাতীয় পরিচয়ে পশু-মানবের বুকে একটু কাঁপন ধরাতে পারিনা?

লেখকঃ অফিসার ইনচার্জ, ডিবি, গাজীপুর।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আকাইর্ভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার ( সকাল ৮:৪৪ )
  • ৫ই জুন ২০২০ ইং
  • ১২ই শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী
  • ২২শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ( গ্রীষ্মকাল )

হাসবি রাব্বি জাল্লাল্লাহ

চোখের জল ধরে রাখা অসম্ভব:– ফজলুর রহমান বাবু

Sepnil

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৭১০৩
সুস্থ
১৫০
মৃত্যু
১৬৩
সূত্র:আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩১১০২১৯
দেশ
১৮৫
মৃত্যু
২১৬৯৮৯
সূত্র:জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি
error: Content is protected !!