মাত্র পাওয়া

নকল এন-৯৫ মাস্ক: ফেরত নিয়ে দায়মুক্তি চায় জেএমআই

| ২২ এপ্রিল ২০২০ | ৪:৩৩ অপরাহ্ণ

নকল এন-৯৫ মাস্ক: ফেরত নিয়ে দায়মুক্তি চায় জেএমআই

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে সরবরাহ করা ২০ হাজার ৬০০টি মাস্ক এন-৯৫ নয় স্বীকার করে একে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলছে এগুলোর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানফ্যাকচারিং। এসব মাস্ক এখন ফেরত নিয়ে এ দায় থেকে মুক্তি চাইছে কোম্পানিটি। তবে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার বলছে, জেএমআইয়ের বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেবে তারা।

দেশে নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত মার্চে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য এসব মাস্ক কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে (সিএমএসডি) সরবরাহ করেছিল জেএমআই। কিন্তু মার্চের শেষ ভাগে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব মাস্ক পাঠানো হয়, তার প্যাকেটে ‘এন-৯৫’ লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক। ফলে সেগুলো আসল মাস্ক কি না তা নিয়ে সন্দেহ চলে আসে। সে ঘটনায় সিএমএসডির সম্পৃক্ততা আছে কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন আসে।

গত ৩০ মার্চ মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৩০০টি ‘এন-৯৫’ মাস্কের নামে নকল মাস্ক সরবরাহ করার পর এ ঘটনাটি আলোচনায় আসে। মাস্কগুলো প্রকৃতপক্ষে ‘এন-৯৫’ কিনা, সে বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী টেলিফোনে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জানতে চান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় মতামত চেয়ে হাসপাতালের পরিচালক চিঠি লেখেন সিএমএসডিতে। বিষয়টি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এলে সিএমএসডি পরিচালক এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। সেখানে ভুলক্রমে এন-৯৫ এর বক্সে সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানানো হলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

জেএমআইকে দায়মুক্তির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল্লাহ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, তারা ক্ষমা চাইতেই পারে। তবে এটার বিষয়ে আমাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর আছে। কোনো সাপ্লায়ার যদি কোনো জিনিস ঠিকমতো সাপ্লাই না করে, সে ব্যাপারে আমাদের তো একটা আইনগত ব্যবস্থা আছেই। সাপ্লায়ার কোনো কারণে যদি ভুল করে, যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, আমরা সেই ব্যবস্থাই নেব। সেটা শুধু ওই প্রতিষ্ঠান নয়, সবার জন্যই প্রযোজ্য।

এর আগে সিএমএসডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ভুলক্রমে এন-৯৫ এর বক্সে সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করেছিল জেএমআই। কিন্তু এন-৯৫ একটি আমেরিকান ব্র্যান্ড। যার মালিকানায় রয়েছে থ্রিএম নামের প্রতিষ্ঠান। চীন, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের অনুমোদিত তিনটি কারখানাই কেবল এই মাস্ক তৈরি করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন এসে যায়, এন-৯৫ মাস্কের এতগুলো বক্স পেল কোথায় জেএমআই? নাকি নিজেদের তৈরি নিম্নমানের মাস্ক অতি উচ্চমূল্যে বিক্রির জন্য এন-৯৫ মাস্কের নকল বক্স তৈরি করেছে তারা?

উল্লেখ্য, শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে গত মাসে চীনকে ১০ লাখ হ্যান্ড গ্লাভস, পাঁচ লাখ মাস্ক, দেড় লাখ টুপি, এক লাখ হাত পরিষ্কারক, ৫০ হাজার জুতার কাভার ও ৮ হাজার গাউন দিয়েছে বাংলাদেশ। যার বেশিরভাগই সরবরাহ করেছে জেএমআই।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

div1 div2 div3 div4 div5 div6 div7 div8