মাত্র পাওয়া

হ্যাটস অফ টু ইউ অল

| ২০ এপ্রিল ২০২০ | ৭:১৪ অপরাহ্ণ

হ্যাটস অফ টু ইউ অল

সোলায়মান মোহাম্মদ

মহামারির এই নিদানকালে অনেকের জন্যেই শ্রদ্ধায় মাথা আপনাআপনিই নত হয়ে আসে। আমরা বাঙালি জাতি সারাজীবন যাদের দোষারুপ করে আসলাম, শুধু অপবাদই দিলাম সেই পুলিশ বাহিনীই আজকে ঢালতলোয়ার ছাড়াই জীবন বাজি রেখে আল্লাহর রহমতবশত মানবজাতি রক্ষায় করোনা সচেতনতায় সর্বোচ্চ অবদান রেখে যাচ্ছেন। ত্রাণ দেয়া থেকে শুরু করে কবর খোরা এমনকি জানাযাও পড়াচ্ছেন এই দুঃসময়ে পুলিশ ভাইয়েরা। বাংলাদেশকে পশ্চিমা পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা করতে পুলিশের যে ভূমিকা তা আজও চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এবারো করোনার বিরুদ্ধে যে সংগ্রামে পুলিশ নেমেছে সেটাও এ জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণে রাখবে। স্যালুট জানাই আপনাদের। এভাবেই শেষ পর্যন্ত চাই আপনাদের। গরিব অসহায় মানুষের দোয়া ও আল্লাহর রহমত পুলিশ ভাইদের সাথে রয়েছে। আপনারা সাহস নিয়ে এভাবেই এগিয়ে চলুন। পুলিশ বাহিনীর সাথে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীও বরাবরের মতো এই মূহুর্তেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন সেটিও ভূয়সী প্রশংসার দাবীদার। একদম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ। সরকারী দায়িত্বের বাহিরেও এসেও নিজেদের উদ্যোগে ত্রাণসহ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নানামূখী কার্যক্রমও গ্রহণ করছেন।

আরো একটি কামিউনিটি যাঁরা মহামারির বিরুদ্ধে খুব কাছ থেকে নিরলস লড়ে যাচ্ছেন। অতীতে তাদেরকেউ আমরা কম গালাগালি করিনি! অথচ দেখুন, আমাদের দেশের মেডিকেল ইকোইপমেন্টের যে দূরাবস্থা সেখানে বলা যায় নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েই রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা, ডাত্তাররা। বেশি দূরে যেতে হবে না। একটু খেয়াল করে দেখুন যেখানে আমরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে ঘরের ভিতর রয়েছি সেখানে গ্রামের চিকিৎসকরা ঠিকই তাঁর গ্রাম্য চিকিৎসালয়টি খোলা রেখেছেন। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক চিন্তায় এটি খোলা রাখা হয়নি। কেননা ওই পল্লি চিকিৎসকেরেও কিন্তু জীবনের মায়া রয়েছে, পরিবার রয়েছে। অথচ এই মূহুর্তে আল্লাহকে হাজির-নাজির করে খুব সামান্য টাকায় গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। সমাজকর্মী ও কলামিস্ট সাঈদ চৌধুরী এ বিষয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, “সকল পল্লী চিকিৎসককে (যারা ঝাপিয়ে পড়ে কাজ করে যাচ্ছেন এ বিপদের মুহূর্তে) বিনম্র শ্রদ্ধা। তারা যেভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তা আমাদের জন্য গর্বের। সকল পল্লী চিকিৎসককে সুন্দর সুস্থ্য বাংলাদেশে সম্মাননা দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। সব উপজেলা থেকেই পল্লী চিকিৎসকদের পিপিই দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। সকল স্বাস্থ্য সেবা দানকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।” আমিও একমত পোষণ করছি। দাবী থাকলো প্রশাসন ও কর্তাব্যক্তিদের নিকট দ্রুত পল্লি চিকিৎসকদের পিপিই প্রদান করাসহ সারা দেশের সকল ডাক্তাররা যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার। আর যেসমস্ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের ডাক্তাররা পিছিয়ে রয়েছেন, হাসপাতাল রেখে পালিয়ে আছেন, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। কোথাও কোথাও পল্লী ডাক্তাররা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ওষুধের দাম বেশি রাখছেন কিনা সেটিরও তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি যাঁরা নিজেদের দ্বায়িত্বে জীবন বাজি রাখছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করা উচিৎ। এখানে আরো একটি বিষয় তুলে ধরছি যে দিকে রাষ্ট্রযন্ত্রের তো অবশ্যই সমাজের সচেতন মহলেরও নজর রাখতে হবে। কোনো দুষ্টচক্র যাতে এই সময়ে কবিরাজ বিদ্যার দোহায় দিয়ে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে না পারে।

আরো একটি কামিউনিটির কথা না বললেই নয়। সাংবাদিক বন্ধুদের কথা। যাঁরা বলছেন “ঘরেই থাকুন, আমরা সংবাদ পৌছে দিবো”। নিজেকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে দেশ ও দশের কথা বিবেচনায় এনে সংবাদের পিছনে ছুটে চলেছেন। সংবাদকর্মের সাথে কিছুটা জড়িত থাকার কারণেই সারাদেশের অনেক সংবাদকর্মী বন্দুদের সাথে হালকা সখ্যতা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেক সময় কথা হয়। এই সময়ে অসহায় মানুষদের জন্য তাঁদের যে আকুতি দেখছি তা ভুলার নয়। প্রান্তিক পর্যায়ের কোন্ মানুষগুলো খাবারের জন্য কষ্ট করছে সেটিও তাঁরা খোঁজে বের করছেন। দূর্যোগমূহুর্তে যাঁরা অসহায়দের ত্রাণ মেরে দিচ্ছে তাদেরকেও পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা হৃদয়ের সবটুকুন ভালোবাসা থাকলো আপনাদের জন্য।

এছাড়াও মানবজাতির এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এগিয়ে আসছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন সংগঠনের পৃষ্ঠাপোষকরা যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তা মানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। পুরো দেশে অঘোষিত লকডাউন থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দিনমজুর, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা পরেছেন মারাত্মক বিপাকে। অনেকেই লজ্জায় মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেন না। এমতাবস্থায় যার যার অবস্থান থেকে সবারই প্রকৃতপক্ষে এগিয়ে আসা উচিৎ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনানুযায়ী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতারা ত্রাণ সহযোগিতা দিচ্ছেন। তবে ত্রাণ দেয়ার ক্ষেত্রে ভোটার-নন ভোটার বা কোনো গ্রুপিং যাতে না হয় সে দিকটা সর্বোচ্চ মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। এছাড়া অধিকাংশ জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে ত্রাণ দেয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক দূরুত্বের যে বিষয়টি তা সম্পূর্ণভাবেই রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এক্ষেত্রে অবশ্য একদম প্রান্তিক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্দিষ্ট টিমের মাধ্যমেই কেবলমাত্র ত্রাণ দেয়ার ব্যাপারটি সুসম্পন্ন হলে চমৎকার হয়। যদিও এখানেও সতর্কতার সাথে কাজটি করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ত্রাণের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হলে বেশ উত্তম হয়।

বিশ্বাস করি করোনাভাইরাস নামক বদমাইশের হাত থেকে নিশ্চয়ই একদিন আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন। নতুন সকালের সূর্য একফালি হাসি নিয়ে মানবলোকে উঁকি দিবেন। সব কিছুই আগের মতো ঠিকঠাক হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে একটি কথা বারবার উচ্চারণ করতে চাই মানবতার এই ক্রান্তিলগ্নে যাঁরা মানবতার সেবাই লড়ে যাচ্ছেন সবাইকে অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা, হ্যাটস অফ টু ইউ অল।

লেখকঃ সম্পাদক ও প্রকাশক, বিরাজমান ডট কম 

Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

div1 div2 div3 div4 div5 div6 div7 div8