মাত্র পাওয়া

শ্রীপুরে ড্রাগন ফল চাষে সফলতা দেখছেন ফলচাষীরা

| ১৭ অক্টোবর ২০২১ | ১১:২৫ অপরাহ্ণ

শ্রীপুরে ড্রাগন ফল চাষে সফলতা দেখছেন ফলচাষীরা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ এক ধরণের ক্যাক্‌টাস প্রজাতির ফল ড্রাগন। এ ফলের উৎস মেক্সিকো হলেও এখন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফলের অন্য নাম পিটায়া ফ্রুট। শীতকালীন ফল গাজর, কমালেবুর থেকেও এর উপকারিতা বেশি। ড্রাগনের মধ্যে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদান। একটি ড্রাগন ফলে ৬০ ক্যালোরি শক্তি এবং প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৯ থাকে। এই ফলে বিটাক্যারোটিন ও লাইকোপিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। বিটাক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে ত্বক, চোখ ও ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি করে।

 পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, সুস্বাদু ও দৃষ্টিনন্দন এই  ড্রাগন ফল এখন চাষ হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। দৃষ্টিনন্দন ড্রাগন সবুজ বাগানজুড়ে হালকা হলুদ রঙের থোকা থোকা ফুল। মাটির দিকে তাকিয়ে ঝুলে আছে। কিছুদিন পরই এতে ফল আসবে। আপনা থেকেই পরাগায়িত হয়ে থাকে ফুলটি। মাঝে মধ্যে মৌমাছি ও প্রজাপতির দল এসে স্পর্শ করে পরাগায়ন ঘটায়। সুস্বাদু  ‘ড্রাগন ফুল’ ও ‘ড্রাগন ফল’ দেখতে অনেকটা নাইটকুইন ফুলের মতো। অপূর্ব সৌন্দর্য ছড়িয়ে ঝুলে থাকে। ড্রাগন ফল আমাদের দেশের নিজস্ব ফল নয়। তবে সে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছে আমাদের দেশের  কৃষকদের বাগান ও ছাদের কোণগুলোতে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুস্বাদু ড্রাগন ফলের আবাদ বেশ বেড়েই চলছে দিন দিন । পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, উচ্চ ফলনশীল ও লাভজনক হওয়ায় উপজেলার  বিভিন্ন এলাকায় ছোট করে হলেও ড্রাগন ফল চাষ এখন দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এই ফলের চাহিদাও রয়েছে বেশ। বাগানে এই ফল ৩-৪ শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শহরে প্রতি কেজি আরেকটু বেশি দরে বিক্রি হয়ে থাকে । ড্রাগন ফলের ভেতরটা যেমন রাঙা, খেতেও সুস্বাদু।

গাজীপুরের শ্রীপুর মাওনা চকপাড়া এলাকায় নুরে আলমের (৩০)  ড্রাগন বাগান । সে মাওনা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড চকপাড়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে।  নুরে আলম ৪ বছর ধরে ১ বিঘা জমিতে  নিজ হাতে প্রায় আড়াই  লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ড্রাগন বাগান। লকডাউনের বন্ধে পুরো সময়টাই কাটাচ্ছেন বাগান সাজানোর কাজে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ড্রাগন ফল চাষী নুরে আলমের সাথে। তিনি জানান, নিজস্ব জায়গায় প্রায় ১ বিঘা জমিতে ড্রাগনের পাশাপাশি পেঁপে চাষ করেন । তিন বছর  আগে ২ শত চারা দিয়েই ড্রাগন বাগানটি সাজানো হয়। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেয়েই  কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে তিনি ৬ শ ফল বিক্রি করেছেন।বর্তমানে বাগানে প্রায় ৪০০ ফল বাজারজাতের উপযোগী হতে চলেছে। ২০/২৫ দিনের মধ্যেই বাজারজাত করা যাবে। আর ড্রাগন ফুল ফুটেছে হাজারেরও অধিক। ফুল থেকে ফল হতে সময় লাগে প্রায় দেড় মাস। দুই জাতের ফল রয়েছে বাগানে যার মাঝে একটির ভিতরে ম্যাজেন্ডা লাল অন্যটির ভিতর সাদা। বাজারে প্রতি কেজির মূল্য ৪০০ টাকা। দুটো বা তিনটায় এক কেজি হয়। পাশাপাশি হাজারেরও অধিক ড্রাগনের চারা এরই মাঝে বাজারজাতের জন্য প্রায় তৈরি। প্রতি চারার মূল্য ২৫ থেকে ৩০ টাকা বলে জানান তিনি। ড্রাগনের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে প্রায় শতাধিক পেঁপে গাছ। যা থেকে অর্ধ লক্ষাধিক টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন। তবে কিছু কিছু পেঁপের চারা অতি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে বলে জানায়। তিনি জানান, ড্রাগনে মাঝে মাঝে ছত্রাক দেখা দিলে জীবানুনাশক স্প্রে করা লাগে আর পঁচন দেখা দিলে অপারেশন করে ডাল কেটে ফেলে দিতে হয়।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মূয়ীদুল হাসান বলেন, ড্রাগন একটি সুস্বাদু ফল। অধিকাংশ কৃষকের দিন দিন ড্রাগন চাষের আগ্রহ বেড়েই চলেছে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

div1 div2 div3 div4 div5 div6 div7 div8
  • Our Visitor

    0 0 2 1 2 0
    Users Today : 6
    Users Yesterday : 7
    Users Last 7 days : 56
    Users Last 30 days : 475
    Users This Month : 13
    Users This Year : 2119
    Total Users : 2120
    Views Today : 7
    Views Yesterday : 44
    Views Last 7 days : 189
    Views Last 30 days : 949
    Views This Month : 51
    Views This Year : 3132
    Total views : 3133
    Who's Online : 0
    Your IP Address : 52.23.219.12
    Server Time : 2021-12-02