মাত্র পাওয়া

“অটোপাস থেকে ইজিপাস” ( শিক্ষকের কলাম-১ )

| ২৯ আগস্ট ২০২১ | ৮:১৪ অপরাহ্ণ

“অটোপাস থেকে ইজিপাস”  ( শিক্ষকের কলাম-১ )

অনেকদিন থেকে এই বিষয়টা নিয়ে লিখবো ভাবছি। কিন্তু যখনই লিখতে বসি, তখনই মনে হয় কী লাভ ;কে পড়বে,কে শুনবে আমার কথা ! এই দেশের মানুষ শিক্ষকের পরামর্শ কেন শোনবে? শিক্ষকরাতো কিচ্ছু জানেনা, কিচ্ছু বোঝেনা, ওদের সাক্ষ্য নাকি আদালতেও নেয় না ! তবে শিক্ষকরা শুধু দু’টো বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন, এক ;- বাড়ি বানালে গরু মার্কা টিন লাগাতে হয়,দুই ;- টয়লেট সেরে সাবান/ছাই দিয়ে হাত ধুতে হয়।
যাই হোক, কথা না বাড়িয়ে সহজ করে শিরোনামের বিষয়বস্তু পরিষ্কার করি-।
গত তিন বছরে এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফলের একটি পরিসংখ্যান দিচ্ছি ; লক্ষ্য করুন,
২০১৮ সালে পাশের হার ৬৬.৬৫%
২০১৯ সালে পাশের হার ৭৩.৯৩%
২০২০ সালে পাশের হার ১০০% (অটো পাস)।
২০১৮ সালে জিপিএ ৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ২৯,২৬২
২০১৯ সালে জিপিএ ৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ৪৭,২৮৬
২০২০ সালে জিপিএ ৫ প্রাপ্তের সংখ্যা ১,৬১,৮০৭ (অটো জিপিএ)।
২০২১ সালের ফলাফল কী হতে পারে তার একটি আগাম চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করি –। আমার কলেজকে উদাহরণ হিসেবে ধরে যদি ব্যাখ্যা করি তাহলে বুঝাতে সুবিধা হবে। ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে পিয়ার আলী কলেজে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৭০, ৪৬১ এবং ৬৭৭ জন। এবার ২০২১সালে ঢাকা বোর্ড প্রেরিত এইচ এস সি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (যারা ফরম পূরণের সুযোগ পেয়েছে) ১৭৩৪ জন। অর্থাৎ এবারের পরীক্ষার্থী সংখ্যা পূর্ববর্তী তিন বছরের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। আশ্চর্য হওয়া স্বাভাবিক, কোত্থেকে আসলো এতো পরীক্ষার্থী ! পিয়ার আলী কলেজে এইচএসসিতে ভর্তির আসন সংখ্যাঃ ৭৮০ জন,এরমধ্যে ড্রপ আউট হয় প্রতি শিক্ষাবর্ষে গড়ে ৭০ জন, বর্ষসমাপনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বাদ দিয়ে ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫০০ জনের মতো। এবারের ১৭৩৪জন পরীক্ষার্থী হলো ;২০১৬ সালে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ, ২০১৭ সালে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ, ২০১৮ সালে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ, ২০১৯ সালে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ এবং ২০২০ সালের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ফরম পূরণ করেনি (মূল কারণ নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ)। অর্থাৎ গত চার বছর যারা বোর্ডের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে এবং ২০২০ সালে ফরম পূরণ না করার কারণে অটো পাসের সুযোগ পায়নি তারা সবাই আসন্ন এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। গত চার বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ থেকে ১৪ লাখের মধ্যে, এবারের পরীক্ষার্থী কত হতে পারে? একটা ধারণা দেয়ার জন্য আমার কলেজে এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যাটা উল্লেখ করলাম ;এরসাথে গোটা দেশের কলেজগুলোর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মিলিয়ে আমরা বলতে পারি এই সংখ্যা ১৯/২০ লাখের কম হবে না(যেহেতু শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এত বাড়বে না)। কিন্তু পরীক্ষায় সরাসরি অংশগ্রহণ করবে সেই গত বছরের মতো ১৪ লাখই ; কারণটা খোলাসা করি। এবার শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিচ্ছে শুধুমাত্র তিনটি ঐচ্ছিক বিষয়ে, উদাহরণ হিসেবে যদি বিজ্ঞান বিভাগের কথা বলি তাহলে ;বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থীরা সশরীরে পরীক্ষা দিবে পদার্থ,রসায়ন,উচ্চতর গণিত/জীববিদ্যা বিষয়ে। তাদের বাংলা ইংরেজি এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের নম্বর যোগ হবে জেএসসি ও এসএসসি এই দুই পরীক্ষা নম্বর গড় করে ( গতবারের অটো পাসের আদলে)। আর এ কারণেই পূর্ববর্তী চার বছরের অকৃতকার্যদের (প্রায় শতভাগ) যারা বাংলা ইংরেজি অথবা তথ্যপ্রযুক্তিতে পাস না করার কারণে উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত না হয়েও জেএসসি এবং এসএসসির প্রাপ্তনম্বরে উত্তীর্ণ হয়ে যাবে (বলা যেতে পারে, ফরম পূরণের সাথে সাথে তারা পাশ করে গেছে)। সেজন্য বলছি ইজি পাসের হার হবে ৯৮/৯৯%।
এবার আসি আগামী ফলাফলে জিপিএ 5 প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কত হতে পারে এই আলোচনায়। এটা চোখ বুজে বলা যায় ;তিন লাখের কম হবে না। কারণ বাধ্যতামূলক যে তিনটি বিষয়ে (বাংলা,ইংরেজি এবং তথ্যপ্রযুক্তি) পরীক্ষার্থীদের শতকরা ৮০ ভাগ নাম্বার পেতে কষ্ট হয় ; তাদের সেই বিষয়গুলোর পরীক্ষা দিতে হবে না, আবার ঐচ্ছিক বিষয় তিনটির পরীক্ষাও দিবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। যে কারণে ওই বিষয়গুলোতে বেশকিছু নম্বর বাড়িয়ে সকল বিষয়ে গড়ে ৮০ নম্বর পেয়ে A+ পাওয়ার সুযোগ বেড়ে যাবে।
এখন কথা হচ্ছে, গত ২/৩ বছরে বিশেষ করে কোভিট ১৯ মহামারী শুরু হওয়ার পর ;এইচ এস সি ফলাফল বলছে আমাদের শিক্ষার্থীদের পাশের হার ৬০/৭০ থেকে বেড়ে শতভাগ হয়েছে এবং অতিমেধাবী (জিপিএ 5 পাওয়া) শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লক্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে ; তাহলে আমরা উল্লসিত না হয়ে উদ্বিগ্ন হচ্ছে কেন ! আমাদের উদ্বেগের আসল কারণটা কী? একজন শিক্ষক হিসেবে আমার শঙ্কাটাই বা-কী ? আমিতো শুধু এইচএসসির ফলাফল দিয়ে অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিশ্লেষন করে বলছি ; যদি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যন্ত সকল স্তরের করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবাস্তবতার এরকম তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ তুলে ধরি,তাহলে দেশ জাতি নিয়ে যাদের নির্মোহ ভাবনা আছে ; এমন যেকোন মানুষেরই নির্ঘুম রাত শুরু হয়ে যাবে। প্রাচীন গ্রিসের লাইসিয়াম হোক আর ভারতবর্ষে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় হোক অথবা গুরুর আশ্রম হোক,কোথায় কবে মূল্যায়ন ছাড়া শিক্ষার্থীদের এভাবে উত্তীর্ণ মহাউত্তীর্ণের সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়েছে ! এই পৃথিবীতে কি অতীতে মহামারী/মহাপ্লাবন আসেনি; মহাযুদ্ধ বাঁধেনি ? প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশ আর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাসের যোগ্যতা কিভাবে মাধ্যমিক পাসের মানদণ্ড হতে পারে? নিম্ন মাধ্যমিক আর মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর কিভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের নম্বর হতে পারে? আরো আজব ব্যাপার হলো ;বাংলা-ইংরেজি-তথ্যপ্রযুক্তি এই তিন বিষয়ে গত চার বছর যারা অকৃতকার্য হয়েছিল, অনলাইন/অফলাইন ক্লাস বা এসাইনমেন্টে অংশগ্রহণ না করে কোন যাদু বলে তারা ৫০/৬০ নম্বর পাওয়ার যোগ্য হয়ে গেলো? স্বাস্থ্যবিধি মেনে Z প্যাটার্নে পরীক্ষার আসন বিন্যাস করে যদি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২০২১সালে ৩ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া যায়, তাহলে (প্রয়োজনে আরো সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অ্যাসাইনমেন্টের নম্বর যোগ করে) ৬ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া অসম্ভব হয়ে গেল কেন? এই পদ্ধতি ২০২০ সালেই বা প্রয়োগ করা হলো না কেন ? গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি,সপিংমল,পর্যটন কেন্দ্র,পরিবহন, অফিস আদালতের চেয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি -সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কি বেশি কঠিন হতো ?
আমরা শুধু প্রশ্নগুলো ছুঁড়ে দিতে পারি, কিন্তু যাঁদের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন ; তাঁরা কেউ এর উত্তর দিতে বাধ্য নয়। তারপরেও কিছু দায়বদ্ধতা সভ্যতার দেয়ালে লেখা হয়ে যায় ; যার মাশুল বছরের পর বছর জাতিকে পরিশোধ করতে হয়।
যাঁরা এতক্ষণ ধৈর্য ধরে অতিসাধারণ একজন নিরীহ শিক্ষকের (পড়ুন ;দেশের সকল শিক্ষকের) হৃদয়ের হাহাকারগুলো শুনেছেন, তাঁদের প্রতি অশেষ ভালোবাসা জানিয়ে ;একটি আফসোস, একটি আসন্ন মহাসঙ্কট, আর একটি অনুরোধের কথা বলে আমার লেখা শেষ করতে চাই —
* আফসোসঃ আমার ছাব্বিশ বছর শিক্ষকজীবনে (আমাকে অথবা আমার সমসাময়িক কোন শিক্ষককে) কেউ জিজ্ঞেস করেনি/পরামর্শ চায়নি ;শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পদ্ধতি কেমন হলে বা পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হলে সত্যিকার অর্থে মেধার মূল্যায়ন হতে পারে, সিলেবাস প্রণয়নের সময় নতুন কী সংযুক্ত অথবা পুরাতন কী বাদ দেয়া যেতে পারে।
** আসন্ন মহাসংকটঃ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া কারিকুলামে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে মোট ছয়টি বিষয়ের বাংলা,ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি এই তিনটি আবশ্যক বিষয় শুধুমাত্র একাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ; এগুলো দ্বাদশ শ্রেণীতে বাদ যাবে।একাদশ শ্রেণির ঐচ্ছিক অন্য তিনটি বিষয় হবে (বিজ্ঞান বিভাগকে উদাহরণ ধরে) পদার্থ প্রথম পত্র, রসায়ন প্রথম পত্র এবং গণিত/ জীববিদ্যা প্রথম পত্র(মোট ৬ পত্র)। দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যসূচিতে শুধু ঐচ্ছিক তিনটি বিষয়ের যেমন পদার্থ দ্বিতীয় ও তৃতীয় পত্র, রসায়ন দ্বিতীয় ও তৃতীয় পত্র এবং গণিত/জীববিদ্যা দ্বিতীয় ও তৃতীয় পত্র (মোট ৬ পত্র) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতি পত্রে 100 নম্বরের পরীক্ষা হবে, সেক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে 100 নম্বর করে এবং পদার্থ, রসায়ন গণিত/জীববিদ্যা 300 নম্বর করে সর্বমোট 1200 নম্বরের পরীক্ষা হবে। এখানে সমস্যাটা কোথায় হবে ;সেটি আপনাদের নজরে আনি ;- উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে বাংলা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের এখন যা পড়ানো হয়,যেমন একাদশ শ্রেণীতে ১০০নম্বরের বিপরীতে ;গল্প কবিতা প্রবন্ধ উপন্যাস নাটক, দ্বাদশ শ্রেণীতে ১০০ নম্বরে বিপরীতে ব্যাকরন প্রবন্ধ ভাবসম্প্রসারণ সারাংশ দরখাস্ত খুদেবার্তা রোজনামচা ভাষণ প্রতিবেদনলিখন ইত্যাদি। তাহলে ২০২৪ সালের বাংলা বিষয়ে ১০০ নম্বরের জন্য কী কী পড়ানো হবে? বর্তমানে প্রচলিত ২০০ নম্বরের পাঠ্যসূচি হতে কোন কোন অধ্যায় বাদ দেয়া হবে? ( ইংরেজি, তথ্যপ্রযুক্তি এর সাথে মিলিয়ে নিন)। আমরাতো এতদিন মনে করে এসেছি, যারা ভালো বাংলা ইংরেজি আর তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান রাখে ;তারাই সুশিক্ষিত ! তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়াচ্ছে? আগামী শিক্ষা ব্যবস্থায় গড়ে উঠবে ‘তত্ত্ব রপ্তকরা’ হৃদয়-মননহীন একটি প্রজন্ম। কৃষ্টি-সাহিত্য-শিল্পবোধবিচ্ছিন্ন সেই প্রজন্ম তাদের অন্তরে কতটুকু বাঙালিয়ানা বা দেশপ্রেম লালন করবে?
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, যে বিশেষজ্ঞদের (?) মাথা থেকে এরকম ভয়ংকর সিদ্ধান্তগুলো বেরোয় ; তাঁরা কি আমৃত্যু এদেশে বাস করবেন? তাঁদের সন্তানরা কি আদৌ এদেশে লেখাপড়া করে ?
*** অনুরোধঃ বাচ্চাদের অটো পাস নিয়ে দয়া করে কেউ ঠাট্টা মশকারা করবেন না, কারণ তারা এই অটোপাস চায়নি ;তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা লেখাপড়ার সাথে ছিল ;সত্যিকার অর্থে তারা নিজেদেরকে খুব বিপন্ন মনে করছে, (একেবারে পড়াশোনার সাথে ছিল না, পরীক্ষায় বসলে ফেল করতো ;আগের বছরগুলোতে যেমন করেছে, তাদের কথা আলাদা)। পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে পাওয়া এই হাইব্রিড ফলাফল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করছে। না বুঝে এই কোমলমতি তরুণ-তরুণীদের মনোকষ্ট আর বাড়াবেন না।
লেখকঃ আহাম্মাদুল কবীর,
সহযোগী অধ্যাপক/বিভাগীয় প্রধান (বাংলা), পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
মাওনা শ্রীপুর গাজীপুর।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

div1 div2 div3 div4 div5 div6 div7 div8
  • Our Visitor

    0 0 2 1 2 0
    Users Today : 6
    Users Yesterday : 7
    Users Last 7 days : 56
    Users Last 30 days : 475
    Users This Month : 13
    Users This Year : 2119
    Total Users : 2120
    Views Today : 7
    Views Yesterday : 44
    Views Last 7 days : 189
    Views Last 30 days : 949
    Views This Month : 51
    Views This Year : 3132
    Total views : 3133
    Who's Online : 0
    Your IP Address : 52.23.219.12
    Server Time : 2021-12-02