মাত্র পাওয়া

শ্রীপুরে সৎ মায়ের নির্যাতনে আড়াই বছরের শিশুর পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গে পচন

| ১৪ আগস্ট ২০২১ | ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ

শ্রীপুরে সৎ মায়ের নির্যাতনে আড়াই বছরের শিশুর পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গে পচন

অভিযুক্ত সৎ মা

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রবাসীর আড়াই বছরের এক শিশুকে সৎ মায়ের কাছ থেকে যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথ ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় সৎ মাকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর দাদা শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শিশুর দাদা আফাজ উদ্দিন জানান, ৮বছর আগে প্রবাস জীবন থেকে দেশে ফিরে সাবিনা ইয়াছমিনকে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করেন দুবাই প্রবাসী মোস্তফা ফকির। সেই বিয়ের আড়াই বছর পর তাদের কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় এক কন্যা শিশু।

এরই মাঝে মোস্তফা ফকিরের সাথে দুবাইতে পরিচয় হয় আলিফা আক্তার রিপা নামের এক নারীর। তারা জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়। রিপা তাদের সেই সম্পর্ক পরিণয়ে রূপ দিতে প্রথম স্ত্রী সাবিনার সাথে ডিভোর্সসহ নানা শর্ত জুড়ে দেন মোস্তফা ফকিরকে। নানা ধরনের চাপে সাবিনাকে ডিভোর্সে রাজি হয় মোস্তফা। শিশুটির চার মাস বয়সেই তার মা সাবিনার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে তার বাবার।

পরে প্রথম সংসারে জন্ম নেয়া শিশুকে দেখাশোনা, মায়ের যতেœ আদর ও ভালবাসা দেয়ার শর্তে রিপাকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন মোস্তফা। পরে গত ছয় মাস পূর্বে তার আড়াই বছরের শিশুকে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে রেখে ফের প্রবাসে (দুবাই) চলে যান।

প্রবাসকালীন জীবনে মোস্তফা তার অর্জিত আয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বেড়াইদেরচালা এলাকায় ১৪ শতাংশ জমি কিনে পাঁচ তলা ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর আলিফা আক্তার রিপার কোন সন্তান হবে না বলে চিকিৎসক জানানোর পর ভিন্ন ফন্দি আঁকেন মোস্তফার দ্বিতীয় স্ত্রী আলিফা আক্তার রিপা। সেই বাড়িটি লিখে নিতে মোস্তফাকে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন। এতেও বাড়ীটি তার স্ত্রীর নামে লিখে দিতে রাজী হচ্ছিল না সে।

পরে বাড়ীটি লিখে নিতে মোস্তফার একমাত্র ভবিষ্যত উত্তরাধিকার এই শিশুটির উপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তার দাদা আফাজ উদ্দিন। তিনি গত ১১আগষ্ট (বুধবার) তার শিশু নাতিকে দেখতে এসে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

এ ঘটনায় শিশুটির দাদা বাদী হয়ে তার সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত আলিফা আক্তার রিপা (৩০) মাগুরা জেলার সদর উপজেলার ধনপাড়া গ্রামের রজব আলী বিশ্বাসের মেয়ে। সেও একসময় দুবাই প্রবাসী ছিল।

মোস্তফা কামাল ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার বাঁশিয়া গ্রামের মো: আফাজ উদ্দিনের ছেলে। সে ১৩বছর ধরে দুবাই প্রবাসী।

আফাজ উদ্দিন আরও বলেন, তার দ্বিতীয় পুত্রবধু একটু উগ্র প্রকৃতির। সে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অঘটনের চেষ্টা করেছে। তার ছেলে প্রবাসে চলে যাওয়ায় শিশু নাতনিকে নিয়ে সে এ বাসাতেই থাকতো। শিশুটিকে তাদের কাছে যেত না। এ বাসাটি লিখে নিতে সে নানা ধরনের ফন্দি তৈরী করেছিল। গত বুধবার তার নাতনিতে দেখতে এসে তারা দেখতে পান সে খুব অসুস্থ। পরে দেখেন তার পায়ূ ও যৌনাঙ্গে গভীর ক্ষত। এসময় তার পুত্রবধুকে জিজ্ঞাসা করলে সে একেক সময় একে কথাবার্তা বলতে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বে কয়েকবার তার নাতিকে তার সৎ মা নানাভাবে নির্যাতন করেছে। তারা বিভিন্ন ভাবে সতর্ক করছিল অভিযুক্তকে। এরপরও তাদের কথা না শুনে শিশুকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তার সৎ মায়ের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলিফা আক্তার রিপা বলেন, শিশুটি ভাতের মাড়ের উপর পড়ে, আবার পা পিছলে পড়ে পায়ূ পথে ও যৌনাঙ্গে এমন ক্ষত তৈরী হয়েছে। তবে পায়ূপথ ছেঁড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পা পিছলে পড়ে এমন হতে পারে।

বাড়ীতে কেয়ারটেকার হিসেবে আছেন মোস্তফার মামা মো: মন্নাছ শেখ। তিনি বলেন, সবসময় বাড়ীতে থাকলেও শিশুটির বিষয়ে তাদের কোন তথ্য জানানো হয়নি। আগুনে পুড়লে আমি খোঁজ পেতাম। বাড়ীতে ভাড়াটিয়া রয়েছে তারা খোঁজ পেতেন অথচ কেউই জানেন না। এমন একটি ঘটনা কাউকে কিছু বুঝতে দেননি অভিযুক্ত। হঠাৎ করে দেখি শিশুটিকে নিয়ে সে চিকিৎসকদের কাছে দৌড়াদৌড়ি করছে। তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলছে গরম পানিতে এমন হয়েছে। তার ভাষ্য শিশুটিকে কারো কাছে যেতে দিত না অভিযুক্ত। এমনকি দাদা দাদির কাছেও না। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি তদন্ত করে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা বের করার দাবী তার।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মইনুল আতিক বলেন, শিশুটিকে মূমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় গত ১১আগষ্ট বিকেলে। তার পায়ূপথ ছেড়া ছিল ও যৌনাঙ্গে দগদগে ঘাঁ। আমাদের ধারণা শিশুটি মারাতœক যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছে। দ্রুত শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সাথে তার স্বজনদের দ্রæত পুলিশ কেসের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এ শিশুটির ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন। যাতে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এমন অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

div1 div2 div3 div4 div5 div6 div7 div8
  • Our Visitor

    0 0 2 1 2 0
    Users Today : 6
    Users Yesterday : 7
    Users Last 7 days : 56
    Users Last 30 days : 475
    Users This Month : 13
    Users This Year : 2119
    Total Users : 2120
    Views Today : 7
    Views Yesterday : 44
    Views Last 7 days : 189
    Views Last 30 days : 949
    Views This Month : 51
    Views This Year : 3132
    Total views : 3133
    Who's Online : 0
    Your IP Address : 52.23.219.12
    Server Time : 2021-12-02