মাত্র পাওয়া

সব ষড়যন্ত্র রুখব ॥ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতির প্রত্যয়

| ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সব ষড়যন্ত্র রুখব ॥ অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতির প্রত্যয়

অমর একুশের প্রতিবাদী চেতনায় নতুন করে উজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে পালিত হলো মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১।

বায়ান্নর অবিনাশী চেতনার উজ্জ্বলতম দিনে রবিবার মায়ের ভাষা বাংলার প্রতি গভীর অনুরাগ আর নিজস্ব জাতিসত্তা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও জীবনযাপনের স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখার শপথ নিল বাঙালী। শহীদদের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল। একই ইতিহাস স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হলো ইউনেস্কো ঘোষিত ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে।

প্রতিবারের মতো এবারও ফুলে ফুলে ভরে উঠেছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। একুশের প্রথম প্রহরে এবং দিনের আলোয় স্মৃতির মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী/আমায় নেবে সঙ্গে,/বাংলা আমার বচন, আমি/জন্মেছি এই বঙ্গে…। নগ্ন পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে গাইতে শোনা যায় : আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি…। এদিন ভাই হারানোর শোক প্রকাশে কালো রঙের প্রাধান্য ছিল পোশাকে। মায়ের ভাষার জন্য আত্মত্যাগ ও অর্জনের আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।

আজ যখন এই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র, যখন বিদেশে বসে চলছে নানা অপতৎপরতা, যখন একের পর এক রটনা, গুজব, ধর্মের নামে উস্কানি, অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা তখন আরও সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বানে পালিত হয় অমর একুশে। তবে করোনাকাল অব্যাহত থাকায় এবার সীমিত পরিসরেই পালন করা হয় অমর একুশে।

মহান শহীদ দিবসে বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। লাল সবুজের পতাকার পাশাপাশি ওড়ানো হয় শোকের কালো পতাকা। অনেকে বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

বরাবরের মতোই একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের সূচনা করা হয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সশরীরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অচিরেই সুপ্রীমকোর্টের সব রায় বাংলায় দেয়া হবে। গত ডিসেম্বরে আমরা একটি সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু করেছি। যার ফলে সুপ্রীমকোর্টের সব রায় ইংরেজী থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। রূপান্তর কাজ শেষ হলে আমরা আরও গুছিয়ে নেব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি অনুবাদ সেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।

এর কিছু সময় পর শহীদ মিনার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও বহু মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। বিভিন্ন সভা, সমিতি, সংঘের নামে ভাগ হয়ে আসা মানুষের হাতে ছিল ফুলের স্তবক। রাত ৩টা পর্যন্ত চলে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকালে শ্রদ্ধা নিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। তবে অন্যান্যবারের মতো অতো লোকসমাগম চোখে পড়ে না। করোনার কারণে ফাঁকা ফাঁকা ছিল চারপাশটা।

বইমেলাহীন অমর একুশে ॥ এবারই প্রথম অমর একুশের দিনে শহীদ মিনার থেকে বইমেলায় যাওয়া হলো না কারও। প্রতিবছর শহীদ মিনারের ঢেউ আছড়ে পড়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্র্দী উদ্যানের বিশাল চত্বরে আয়োজিত মেলা পূর্ণতা পায় এদিন। কিন্তু ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত বইমেলা এবার পিছিয়ে গেছে। মার্চে অনুষ্ঠিত হবে মেলা। ফলে একুশের দিনের মেলা ঘুরে বেড়ানো, বই খোঁজা এবার হয়নি।

একুশের নানা আয়োজন ॥ অমর একুশের দিনে ঢাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আয়োজকরা। এদিনের মূল আয়োজনটি ছিল মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে। এতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধ্যায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। ‘বিশ্বের সব মাতৃভাষা রক্ষা করবে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আয়োজন থেকে হারিয়ে যেতে বসা ভাষাগুলো বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ দেয়া হয়। তবে এই আলোচনায় বিশেষজ্ঞ কোন বক্তা ছিলেন না। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব বক্তব্য রাখেন। বাংলা একাডেমির আলোচনাটিকে একুশের বলা হলেও, বিষয় ছিল ভিন্ন।

করোনাকাল হওয়ায় অনেক স্বীকৃত সংগঠন কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেনি। প্রতিবছর ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর মঞ্চে একুশের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এবার তা বাতিল করা হয়। অনেক সংগঠনই ভার্চুয়ালি একুশের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনলাইনে গানে গানে শহীদদের প্রদি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে ছায়ানট। একই মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ গণসঙ্গীতের ভাষায় শ্রদ্ধা জানায় বায়ান্নর ভাষা শহীদদের প্রতি।

এবার স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতিটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ ৫ প্রতিনিধি ও ব্যক্তিপর্যায়ে এক সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ জন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। বাস্তবে তা হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি মানতে বা মানাতে কোন পদক্ষেপ এদিন চোখে পড়েনি। অনেক আগে বেলা ২টার দিকে সম্পূর্ণ শিথিল করে দেয়া হয় নিরাপত্তা ব্যববস্থাও। ফলে মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। গোটা এলাকাজুড়ে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। একুশের দিনে শহীদ মিনারের মারাত্মক অবমাননাও চোখে পড়ে, যা ছিল ভীষণ বেদনার। এ ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন আগতদের অনেকে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার রক্ষায় বন্দুকের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল বাঙালী। বরকত, সালাম, রফিক, শফিক, জব্বারদের প্রাণের বিনিময়ে লেখা হয়েছিল নতুন ইতিহাস। পাকিস্তানী শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে উর্দুর আগ্রাসন থেকে বাংলাকে মুক্ত করেছিল এ মাটির সন্তানরা। শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিল দুঃখিনী বর্ণমালা। শুধু ঢাকায় নয়, বাংলার প্রতি ঘরে বোনা হয়েছিল একুশের রক্তবীজ। বায়ান্নর সে বীজ থেকেই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম।

রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতিসত্তার যে স্ফূরণ ঘটেছিল তা-ই পরবর্তিতে বাঙালীর জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক প্রেরণা যোগায়। নিজ নিজ মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানানোর বিশেষ অনুপ্রেরণা হয়ে আসে একুশে ফেব্রুয়ারি। ভাষার অধিকারের পক্ষে লড়ার পাশাপাশি, ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে একুশ ছিল বাঙালীর প্রথম প্রতিরোধ। নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার সংগ্রাম হিসেবেও এর রয়েছে আলাদা তাৎপর্য।

বায়ান্নর সেই দিনটির কথা আর অজানা নয় কারও। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়। জন্ম নেয় পৃথক দুই রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের দুই অংশ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান। সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্বাঞ্চলের মানুষ বাঙালী। মাতৃভাষা বাংলা। অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত ছিল সিন্ধী, পশ্তু, বেলুচ, উর্দুসহ কয়েকটি ভাষা। এ অবস্থায় পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন মুসলীম লীগ নেতৃত্ব সমগ্র পাকিস্তানের আনুমানিক পাঁচ শতাংশের ভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত শুরু করে। অথচ তারও অনেক আগে পূর্ব পাকিস্তানে ভাষাচেতনার উন্মেষ ঘটেছিল। মায়ের ভাষার প্রতি বাঙালীর অনুভূতি কত তীব্র ছিল তা জানিয়ে মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিম লিখেছিলেন : যে সব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী/সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি…। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এই অনুভূতি স্পর্শ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এ অঞ্চলের মানুষকে পেছনে ফেলে রাখার প্রাথমিক ষড়যন্ত্র হিসেবে ভাষার ওপর আঘাত হানে। মায়ের ভাষা বাংলা মুখ থেকে কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। বাংলাভাষী মানুষের সকল অনুভূতি তুচ্ছ করে উর্দুকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা আসতে থাকে শীর্ষ মহল থেকে। এমন ষড়যন্ত্রে হতবাক হয়ে যায় বাংলার মানুষ। বাঙালীর সে সময়ের মনোজগত তুলে ধরে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন, ‘মাগো, ওরা বলে/সবার কথা কেড়ে নেবে।/তোমার কোলে শুয়ে/ গল্প শুনতে দেবে না।/বলো, মা,/ তাই কি হয়?’

এর পরও নিজেদের সিদ্ধান্তে স্থির থাকে পশ্চিম পাকিস্তানীরা। গণচেতনাকে স্তব্ধ করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে। এ অবস্থায় বাঙালীর সামনে দুর্বার আন্দোলনের বিকল্প ছিল না। ১৯৪৮ সাল এবং ১৯৫২ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম তার প্রমাণ। বিশেষ করে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানীদের গোয়ার্তুমির চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে। এদিন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি রুখতে ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। কিন্তু সকল ভয় জয় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে। বাংলার দাবি চিরতরে স্তব্ধ করতে মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আবুল বরকত, আবদুল জব্বার ও আবদুস সালাম, শফিক, রফিকসহ নাম না জানা অনেকে। গীতিকবির ভাষায় : রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালী/তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি…। মায়ের ভাষার জন্য বিরল রক্তস্রোত। রাজপথ ভেসে গিয়েছিল তরুণ তাজা খুনে। ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হন। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে আসেন। স্বজন হারানোর স্মৃতি অমর করে রাখতে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের স্মরণে গড়ে তোলা হয় স্মৃতিস্তম্ভ। ২৬ ফেব্রুয়ারি স্মৃতির মিনার গুঁড়িয়ে দেয় পুলিশ। তবে কাজ হয় না কোন। কোথায় বরকত কোথায় সালাম/সারা বাংলা কাঁদিয়া মরে।/যে রক্তের বানে ইতিহাস হলো লাল/যে মৃত্যুর গানে জীবন জাগে বিশাল/সে জাগে ঘরে ঘরে…। বাংলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে। ৯ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে অমর একুশে।

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাগতম – বিরাজমান ডট কম

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

div1 div2 div3 div4 div5 div6 div7 div8